গুলির দাম ৭০–৮০ টাকা, তবে চোরাবাজারে বিক্রি ৫০০–৭০০ তে! গোয়েন্দাদের তদন্তে নতুন মোড়

কলকাতার বিবাদী বাগের অতি পুরোনো লাইসেন্সড অস্ত্রের দোকান থেকে বন্দুক এবং গুলির পাচারের ঘটনায় গোয়েন্দাদের তদন্ত এখন এক নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এই ঘটনার তদন্তে তৎপর এবং তারা জানতে চাচ্ছে, কতদিন ধরে বেআইনি ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ ওই দোকান থেকে পাচার হয়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছেছে।

এই পাচার চক্রে আরও এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি ফারুক মল্লিক নামে পরিচিত। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার বাগানাটি গ্রামের বাসিন্দা ফারুকের কাছ থেকে একটি ডাবল ব্যারেল বন্দুক এবং ১২ বোরের চারটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ, এবং এখন পর্যন্ত গুলি-পাচারের এই চক্রে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে প্রথম গ্রেপ্তার হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার ঈশ্বরীপুরের ৭০ বছর বয়সী হাজি রশিদ মোল্লা, যার বাড়ি থেকে প্রায় ২০০টি কার্তুজ এবং একটি ডাবল ব্যারেল বন্দুক উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, হাজির কাছ থেকেই ফারুক বন্দুকটি কিনেছিল এবং এই অস্ত্রটি লাইসেন্সড দোকান থেকে জোগাড় করা হয়েছিল।

বেঙ্গল এসটিএফের দাবি, বিবাদী বাগের ওই লাইসেন্সড দোকানের স্টক রেজিস্টারে থাকা কার্তুজের সংখ্যা বাস্তবে থাকা স্টকের সঙ্গে মেলেনি। তদন্তকারীরা জানান, দোকানে গুলির স্টক সরকারি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি থেকে আসে এবং তা নিয়মিতভাবে পুলিশের একটি শাখার মাধ্যমে হিসাবের মধ্যে রাখা উচিত। তবে, দোকানের কর্মীরা এবং মালিকদের কাছে প্রশ্ন উঠেছে— কিভাবে এই বিপুল পরিমাণ গুলি বেআইনি ভাবে দোকান থেকে বাইরে চলে গেছে।

আইন অনুযায়ী, একজন লাইসেন্সধারী এক বছরে সর্বাধিক ৫০টি গুলি কিনতে পারেন, তবে কালোবাজারে এসব গুলির দাম ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা লাইসেন্সড দোকানে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়। গত শনিবার নদিয়ার শান্তিপুরের জয়ন্ত দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে গোয়েন্দাদের একটি অংশ মনে করেন যে, দোকানের কর্মী একমাত্র জয়ন্তের জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহজনক।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ফারুকসহ অন্যদের মধ্যে কয়েকজন তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিজেপির যুবমোর্চার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পলাশ সরকার দাবি করেছেন, “তৃণমূল যে গুলি-বন্দুকের রাজনীতি করে, সেটা আবারও প্রমাণিত হল।” তবে তৃণমূলের বসিরহাট সংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান সরোজ বন্দোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, “ধৃতরা এক সময় তৃণমূল করত, কিন্তু এখন তাদের দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”

এই ঘটনার তদন্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।