“৬৩ বছরের পুরনো আইনকে বিদায়”-সংসদে নতুন আয়কর বিল, জেনেনিন ১০ টি বিশেষ পয়েন্ট

সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালীন আজ সরকার লোকসভায় নতুন আয়কর বিল (New Income Tax Bill 2025) পেশ করতে চলেছে, যা ১৯৬১ সালের আয়কর আইনকে প্রতিস্থাপন করবে। ৬৩ বছর পর বাতিল হতে চলেছে এই পুরনো আয়কর আইন। নতুন বিলটিতে আয়কর সংক্রান্ত অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা করদাতাদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং করবান্ধব বলে দাবি করা হচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত খসড়া কপি অনুযায়ী, নতুন আইনে কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন আয়কর বিল ২০২৫-এর ১০টি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
১. বিলের পৃষ্ঠা সংখ্যা কমেছে
নতুন আয়কর বিলটি আগের তুলনায় আরও সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করা হয়েছে। ১৯৬১ সালের আয়কর বিলের ৮৮০ পৃষ্ঠার বিপরীতে নতুন বিলে মাত্র ৬২২ পৃষ্ঠা রয়েছে। এতে ৫৩৬টি ধারা এবং ২৩টি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২. ‘Tax Year’ ধারণার প্রবর্তন
নতুন বিলে ‘Tax Year’ ধারণা চালু করা হয়েছে, যা মূল্যায়ন বছর এবং আর্থিক বছরের বিভ্রান্তি দূর করবে। উদাহরণস্বরূপ, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালকে Tax Year ২০২৫-২৬ বলা হবে।

৩. স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনে পরিবর্তন
পুরনো কর ব্যবস্থায় বেতনভোগী ব্যক্তিরা ৫০,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন পেতেন। নতুন ব্যবস্থায় এই ডিডাকশন ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর স্ল্যাবে কোনও পরিবর্তন না করে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে।

৪. CBDT-কে স্বাধীন ক্ষমতা
নতুন বিলে কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড (CBDT)-কে স্বাধীনভাবে কর প্রকল্প চালু করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব কমাতে সাহায্য করবে।

৫. ক্যাপিটাল গেনের হার অপরিবর্তিত
শেয়ার বাজারে স্বল্পমেয়াদী মূলধন লাভের সময়কাল ১২ মাসই থাকবে এবং এর হার ২০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভের ক্ষেত্রে কর হার ১২.৫ শতাংশে রাখা হয়েছে।

৬. পেনশন, এনপিএস এবং বিমার উপর ছাড়
পেনশন, এনপিএস অবদান এবং বিমার উপর কর কর্তন অব্যাহত থাকবে। অবসর তহবিল, গ্র্যাচুইটি এবং পিএফ অবদানও করমুক্ত থাকবে। ELSS মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের উপরও কর ছাড় দেওয়া হবে।

৭. কর ফাঁকির শাস্তি কঠোর
নতুন বিলে কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির জন্য মামলা, উচ্চ সুদ এবং জরিমানা আরোপ করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্যও ভারী জরিমানা প্রস্তাব করা হয়েছে।

৮. ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক
কর পরিশোধ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে ই-কেওয়াইসি এবং অনলাইন কর প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ই-ফাইলিং বাধ্যতামূলক করলে কর প্রদানে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

৯. কৃষি আয় করমুক্ত
নতুন বিলে কৃষি আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। ধর্মীয় ট্রাস্ট, প্রতিষ্ঠান এবং অনুদানে প্রদত্ত অর্থের উপরও কর অব্যাহতি দেওয়া হবে।

১০. বিরোধ কমাতে সহজ ভাষা
১৯৬১ সালের আইনের অস্পষ্টতা দূর করে নতুন বিলটি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে করদাতা এবং সরকারের মধ্যে বিরোধের সংখ্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেষ কথা
নতুন আয়কর বিল ২০২৫ কর ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং করদাতাবান্ধব করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। এটি ডিজিটালাইজেশন এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর নিয়মের মাধ্যমে কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে। করদাতাদের জন্য এই পরিবর্তনগুলি ইতিবাচক হলেও, এর সফল বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে নতুন আইন কতটা কার্যকর হবে।