ভুয়ো সংস্থা খুলে লোভনীয় চাকরির টোপ, প্রতারণার অভিযোগ TMC নেতার বিরুদ্ধে

পাটুলির এক তৃণমূল যুবনেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তৃণমূল যুবনেতা শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি পাটুলির ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একটি ভুয়ো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলবল পাটুলির বৈষ্ণবঘাটা এলাকায় ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ’ নামে একটি ভুয়ো প্রতিষ্ঠান খুলে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বহু যুবক-যুবতীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও কাউকেই চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং টাকা ফেরত চাইলে তাদের হয়রানি ও হুমকির শিকার হতে হয়েছে।

এই প্রতারণা চক্রের প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। হিমাচল প্রদেশের এক যুবক, যিনি নিজেও এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাঁর দাবি, এই চক্রের চারজন সদস্যের মধ্যে একজনকে পাটুলি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হওয়ায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অভিযোগকারী যুবক ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ডিসিপি, যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) এবং কলকাতার নগরপালের কাছে অভিযোগের প্রতিলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে তিনি এই প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ে চাকরির জন্য টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত চাকরি না পাওয়ায় তিনি তাঁর টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে হয়রানি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি এখনও টাকা চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই ঘটনায় পাটুলি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত তৃণমূল যুবনেতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এখনও কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও দলীয় নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে কিনা। অভিযোগকারী যুবক এবং অন্যান্য শিকারেরা ন্যায়বিচার পাবেন কিনা, তা এখনই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আজতক