“কিছু কাজ বাকি আছে, তাই আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছে”, ‘বেইমান’ ইউনূসের মুখ খুললেন হাসিনা

বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ও মিউজিয়ামে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ৫ অগস্ট, ২০২৪ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ পর্যন্ত দেশে মৌলবাদী উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যালও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে, এবং তারপরও থেমে থাকেনি অস্থিরতা। সম্প্রতি, রাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় মুজিবরের বাড়িতে এবং বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিস্ফোরক ভাষণ দিয়ে দেশবাসীকে চমকে দিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, “পাকিস্তানি হানাদাররা যা করতে পারেনি, তা আজ মহম্মদ ইউনূস করেছে।” হাসিনা আরও বলেন, “বাংলাদেশে ধ্বংসের খেলা চলছে, রক্তের খেলা চলছে। যে বাংলাদেশ কখনো ছিল বিশ্বে রোল মডেল, আজ তা জঙ্গি দেশে পরিণত হয়েছে।”

এই ভাষণে শেখ হাসিনা মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, “১৯৯০ সালে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের বেতন ছিল ৬ হাজার টাকা, কিন্তু ১৯৯৬ সালে আমি ক্ষমতায় আসার পর ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে এই ব্যাঙ্কে সংস্কার করি। তখন আমি ড. ইউনূসকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে লাভের অঙ্ক ব্যাঙ্কে যাবে, কিন্তু তা হয়নি। সেই অর্থ আত্নসাৎ করেছে। আর্থিক তছরুপ করেছে।”

শেখ হাসিনা আরও বলেন, “একটা মানুষ ক্ষমতার লোভে গোটা বাংলাদেশকে ছারখার করছে। কতটা বেইমান যে সেই আমায় ও রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। নিশ্চয়ই আমার কিছু কাজ বাকি আছে, তাই আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছে। গ্রেনেড, গুলি হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছি। এবারে ইউনূস সাহেবের পরিকল্পনাই ছিল আমাকে ও রেহানাকে হত্যা করা। মেটিকুলাস ডিজাইনই ছিল আমাদের দুই বোনকে হত্যা করা। কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আবার বাংলাদেশ ফিরে আসবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরে আসবে। শহিদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না।”

শেখ হাসিনার এই দাবির পর দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। একদিকে, মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করছে, অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঘনিয়ে উঠছে তিক্ততা।

বাংলাদেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহল এখন অপেক্ষা করছে এই অস্থিরতা কিভাবে সমাধান হবে, এবং দেশ কবে আবার তার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরবে।