“সরস্বতী পুজোর ভাসানেও ধুন্ধুমার কান্ড”-ফাটলো যুবকের মাথা, রক্তাক্ত পরিস্থিতি

কৃষ্ণনগরের পুতুলপট্টি এলাকায় সরস্বতী পুজো বিসর্জনকে কেন্দ্র করে তীব্র অশান্তি দেখা দিয়েছে। দুই পুজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে ঝামেলা বেড়ে গিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বুধবার রাতে এই মারামারিতে দু’জনের মাথা ফেটে যায় এবং ৪-৫ জন জখম হন।

দাসপাড়া বারোয়ারি ও তুফান সংঘের প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় দুই কমিটির লোকজনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। তুফান সংঘের প্রতিমার সঙ্গে ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী নীতুরঞ্জন বিশ্বাস। অভিযোগ, তিনি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করেন।

বিসর্জনের ঘাটের দিকে যাওয়ার সময় পুতুলপট্টি এলাকায় দাসপাড়ার প্রতিমা পৌঁছালে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, বাঁশ, লাঠি, হাঁসুয়া দিয়ে দাসপাড়ার এক যুবককে আক্রমণ করা হয়, যার ফলে মারামারি শুরু হয়। এই ঘটনায় দু’পক্ষের ৪-৫ জন আহত হন। আহত যুবকের পিসি অভিযোগ করেন, “কাউন্সিলরের লোকজন গালিগালাজ করে, এবং দা দিয়ে আমার ভাইপোকে কোপানো হয়েছে।”

খবর পেয়ে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যুবককে উদ্ধার করে।

এছাড়া, কৃষ্ণনগরে আগেও জগদ্ধাত্রী পুজো বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রতি বছরই কৃষ্ণনগরের পুজো বিসর্জনকে ঘিরে কিছু না কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটে থাকে, এবং একবার প্রাণহানিও ঘটেছিল। কিন্তু সরস্বতী পুজোর ভাসানকে কেন্দ্র করে এমন রক্তারক্তি ঘটনা ঘটবে তা অপ্রত্যাশিত ছিল।

কাউন্সিলরের স্বামী নীতুরঞ্জন বিশ্বাস জানান, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, দাসপাড়ার পুরোনো গোলমালের প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছাকৃতভাবে এই অশান্তি তৈরি করা হয়েছে। নীতুরঞ্জন আরও দাবি করেন, তিনি কাউকে মারধরও করেননি, বরং গোলমাল ঠেকাতে গিয়ে উল্টে মার খেয়েছেন।

এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ এখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে, তবে কৃষ্ণনগরের এই অশান্তি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।