সিপিএমের নিয়ম লঙ্ঘন? রাজ্য কমিটির বৈঠক ঘিরে সৃষ্টি হলো তীব্র বিতর্ক

নিজেদের নির্ধারিত নিয়ম ভেঙে ৭০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়া নেতাকে জেলা সম্পাদক করার সিদ্ধান্তে বিতর্কে জড়ালো সিপিএম। দলের নীতি অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি কেউ জেলা কমিটিতে থাকতে পারবেন না, তবুও এই নিয়ম লঙ্ঘন করেই কয়েকটি জেলায় প্রবীণ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য কমিটির বৈঠকে।
সিপিএমের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী কেউ জেলা কমিটিতে থাকতে পারবেন না। কিন্তু কোচবিহারের জেলা সম্পাদক হয়েছেন অনন্ত রায়, যিনি দুই মাস আগেই ৭০ পেরিয়েছেন। কেন এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হল, তা নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন দলের নেতারা।
শুধু বয়সের নিয়ম লঙ্ঘন নয়, দলের আরেক নীতি অনুযায়ী, তিন দফার মেয়াদ পূর্ণ হলে জেলা সম্পাদকের পদ থেকে সরে যেতে হবে। কিন্তু এই নিয়মও উপেক্ষা করে পূর্ব মেদিনীপুর ও মালদহে চতুর্থবারের জন্য জেলা সম্পাদক হয়েছেন নিরঞ্জন সিহি ও অম্বর রায়। দলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে কেন পুরনো নেতাদেরই দায়িত্বে রাখা হচ্ছে?
এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “এটি একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত, পরিস্থিতির জন্য এটি করতে হয়েছে, তবে এটি সাময়িক।” দলের একাংশের মতে, এই তিন জেলায় প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল, আর তা থামাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিপিএমের এই সিদ্ধান্ত দলের তরুণ কর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আনার বার্তা, অন্যদিকে প্রবীণ নেতাদের পদে রাখা— এই দ্বৈত নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলীয় কর্মীদের মধ্যেই। এখন দেখার, সিপিএম ভবিষ্যতে এই নিয়মে স্থায়ী পরিবর্তন আনে কি না।