বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুকেশ অম্বানী

২০১৬ সাল থেকে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে নিয়মিত আসছেন তিনি। প্রতিবারই সম্মেলনের আয়োজন দেখে মুগ্ধ হন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ অম্বানী। এবছরও তার ব্যতিক্রম হলো না। বুধবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি।

বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন মুকেশ অম্বানী। তিনি বলেন, “বাংলা আধ্যাত্মিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের ভূমি। এটি স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায় ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মাটি। অতীতে বাংলা নবজাগরণের কেন্দ্র ছিল, আর এখন এখানে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের নবজাগরণ ঘটছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুকেশ অম্বানী বলেন, “মমতাদিদি, আপনাকে এবং আপনার সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি অসাধারণ সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য। ২০১৬ সাল থেকে আমি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে আসছি। আমি প্রতিবার ভাবি, আগেরবারের চেয়ে ভালো আয়োজন আর হতে পারে না। কিন্তু আপনি আমাকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রতি বছর সম্মেলনের পরিধি আরও বড় ও সমৃদ্ধ হয়েছে।”

মুকেশ অম্বানী বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বলেন, “আজকের বাংলা মানে দক্ষ বাস্তবায়ন। মমতাদিদির নেতৃত্বে বাংলা মানে বাণিজ্য। তিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দেন না, তা বাস্তবায়নও করেন।” সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “একজন মহান নেতা সেই হন, যিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। মমতাদিদির নেতৃত্বে বাংলা গত ১৪ বছরে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন মুকেশ অম্বানী। তিনি বলেন, “মমতা শব্দের অর্থ সহানুভূতি ও সমবেদনা। কিন্তু আপনি ক্লান্তিহীন এক নেতা। আপনি আমায় বলেছিলেন, প্রতিদিন ৬৪,০০০ স্টেপ হাঁটেন। প্রথমে ভেবেছিলাম, এটা সাপ্তাহিক হিসাব! কিন্তু আপনি বললেন, প্রতিদিনই এত হাঁটেন। এটাই আপনার শক্তি।”

এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এক কবিতার লাইনও পড়ে শোনান মুকেশ অম্বানী। তাঁর এই বক্তব্য বাংলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে বাংলার প্রতি বিনিয়োগের অঙ্গীকার যেমন দৃঢ় হয়েছে, তেমনই এই মঞ্চ থেকে উঠে এসেছে বাংলার নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের মুগ্ধতার কথা।