শৈশব থেকে উন্নতমানের শিক্ষা, স্মার্ট ক্লাসরুমের প্রভাব নিয়ে রিপোর্ট তলব করল শিক্ষা দফতর

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, শৈশব থেকেই শিশুদের উন্নতমানের শিক্ষা প্রদান করা। সেই উদ্দেশ্যে, রাজ্যজুড়ে বেশিরভাগ স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার, প্রশ্ন উঠেছে—স্মার্ট ক্লাসরুম থেকে শিক্ষার্থীরা কি যথাযথ শিক্ষা পাচ্ছে? তারা কি সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য, রাজ্যের শিক্ষা দফতর স্মার্ট ক্লাসরুমে থাকা স্কুলগুলির থেকে রিপোর্ট তলব করেছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শুক্রবার তিন হাজার স্মার্ট ক্লাসরুমসহ স্কুলের রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন। স্কুলগুলিকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট ডিআই’দের কাছে জমা দিতে হবে। ডিআই’রা ওই রিপোর্টগুলি শিক্ষা দফতরে পাঠাবে, এবং সেখানে যদি কোন পরামর্শ থাকে, সেগুলিও যুক্ত করা হবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষা দফতর জানায়, স্মার্ট ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষার মান এবং ছাত্রদের জ্ঞানের ক্ষেত্রে উন্নতির স্তর কেমন, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে, রিপোর্টে স্কুলগুলির প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বা সমস্যা থাকলে তা আলাদা করে উল্লেখ করার জন্য বলা হয়েছে। কিছু স্কুলে যন্ত্রপাতি যেমন স্মার্ট বোর্ড, প্রজেক্টর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা তার কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।
তাছাড়া, রাজ্য সরকার ই-লার্নিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছে ৬৫০টি প্রাথমিক এবং ৪১টি সরকারি স্কুলে। এই স্কুলগুলিকে স্মার্ট বোর্ড, ডিজিটাল লার্নিং কনটেন্ট, প্রজেক্টর, ল্যাপটপসহ বিশেষ সফটওয়্যার এবং ডিভাইস প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষাদফতরের কাছে খবর এসেছে যে, বেশিরভাগ স্কুলেই এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে, অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গিয়েছে।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগসহ ওয়েবেলের সহায়তায় এই স্কুলগুলিতে ই-লার্নিং কার্যক্রম চলছে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, স্মার্ট ক্লাসরুম চালু হওয়ার পর ১২টি শহরে ছাত্রদের নথিভুক্তির হার ২২ শতাংশ বেড়েছে। ছাত্রদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। তবে, বাংলার ছাত্ররা প্রযুক্তি ব্যবহারে কিছুটা পিছিয়ে আছে, বিশেষত স্মার্টফোন এবং কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে, শিক্ষার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে জোর দিলে, ছাত্ররা আরও উপকৃত হবে বলেই মনে করছে শিক্ষা দফতর।
শিক্ষা দফতরের আশাবাদ, স্মার্ট ক্লাসরুমের সঠিক ব্যবহারে শিক্ষার মান এবং ছাত্রদের জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে, এবং তারা আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।