“মিথ্যে বলব না, ৯০-এর দশকে…?”- নিজেই কংগ্রেসের বিস্ফোরক সমালোচনা করলেন রাহুল গান্ধী

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক কমে যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। নিজের দলের সমালোচনায় তিনি মেনে নিলেন যে দলিত, ওবিসি, অন্তজশ্রেণি ও সংখ্যালঘুদের বড় অংশ কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ৯০-এর দশকে দলিত, ওবিসি ও সংখ্যালঘু উন্নয়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের নীতিতে ত্রুটি ছিল। এর ফলে আরএসএস-এর শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কংগ্রেস যদি তাদের ‘মূল ভিত্তি’ পুনরুদ্ধার করতে পারে, তাহলে বিজেপি ও আরএসএস পালাতে বাধ্য হবে। বৃহস্পতিবার দলিত ইনফ্লুয়েন্সারদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

‘কিছু ত্রুটি ছিল, যা গোপন নয়’

রাহুল গান্ধী তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তখন কংগ্রেস দলিত, সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর শ্রেণির পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে কিছু নীতিগত ভুল ছিল, যা গোপন নয়। গত ১০-১৫ বছরে কংগ্রেস যা করা উচিত ছিল, তা করেনি। যদি দলিত, ওবিসি ও সংখ্যালঘুরা তাদের আস্থা কংগ্রেসের উপর বজায় রাখত, তাহলে আরএসএস ক্ষমতায় আসতে পারত না। ইন্দিরা গান্ধীর সময় সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ কংগ্রেসের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছিল, কিন্তু ১৯৯০-এর পর সেই সমর্থন কমে আসে।”

‘বিজেপি ও আরএসএস পালাবে’

রাহুল গান্ধী বিজেপি-আরএসএসকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার কৌশল ব্যাখ্যা করে বলেন, “যেদিন আমরা ঐক্যবদ্ধ হব, ওরা পালাবে। যেদিন কংগ্রেস তার মূল ভিত্তিকে একত্রিত করতে পারবে, বিজেপি ও আরএসএস পালাবে। আমাদের দলিত, অনগ্রসর শ্রেণি ও সংখ্যালঘুদের কথা শুনতে হবে এবং ঐক্যের জন্য কাজ করতে হবে, যদিও এটি করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা দেখছেন, বিজেপি কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি করতে পারছে না। ওরা দেশ চালাতে পারছে না। শুধুমাত্র প্রতারণা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি বাজেটে বলেছি, পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশ, কিন্তু ক্ষমতায় তাদের অংশ মাত্র ৫ শতাংশ। দলিতদের জনসংখ্যা ১৫ শতাংশ, কিন্তু ক্ষমতায় তারা মাত্র ১ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব পায়।”