“কোন বিষয়ে বেশি লজ্জা পেয়েছিলেন?”-নন্দিনীকে নিশানা করে কুণালের পাল্টা তাপসের ‘ছেলে ঢোকানো’ মন্তব্য

আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা-মাকে বারবার কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্যাতিতার বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঠিক ছিল কি না, বাবা-মা কিছু গোপন করছেন কি না, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি, সন্তান হারানোর পরও তাঁদের স্থির মনোভাব বজায় রাখার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এবার এই প্রসঙ্গে প্রয়াত অভিনেতা-সাংসদ তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পাল মুখোপাধ্যায় তীব্র সমালোচনা করেছেন কুণাল ঘোষকে।

আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন নিয়ে কুণাল ঘোষ আগেও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যের বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন নন্দিনী পাল। তিনি কুণাল ঘোষকে ‘রূঢ়’ ও ‘অসংবেদনশীল’ বলে কটাক্ষ করেন। পাল্টা কুণাল ঘোষও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেন।

তাপস পালের অতীত বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে কুণাল ঘোষ নন্দিনী পালের উদ্দেশে বলেন, “কোন বিষয়ে বেশি লজ্জা পেয়েছিলেন? আমার বক্তব্যে, না কি যখন আপনার স্বামী বলেছিলেন ‘ছেলে ঘরে ঢুকিয়ে দেব’ সেই সময়?” তিনি আরও বলেন, “ওঁর স্বামী যখন ওই মন্তব্য করেছিলেন, তখন কি লজ্জা লাগেনি? এখন আমার উপর অন্য কোনও ক্ষোভ প্রকাশের চেষ্টা করলে তা ঠিক হবে না।”

ফেসবুকে কুণাল ঘোষকে কটাক্ষ করে নন্দিনী পাল লেখেন, “আমি ২০ দিনের মধ্যে বাবা-মাকে হারিয়েছি। স্বামীকেও হারিয়েছি, কিন্তু প্রকাশ্যে কাঁদতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমার কষ্ট নেই। দয়া করে জেনে রাখুন, দুঃখ-বেদনার প্রকাশ ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তাই কেউ প্রকাশ্যে না কাঁদলে তাঁকে আবেগহীন ভাববেন না।”

তিনি আরও লেখেন, “আপনার মন্তব্য এত অসংবেদনশীল কেন? শুনলে গা পিত্তি জ্বলে যায়! বাবা-মা কাঁদছেন না বলেই কি তাঁরা দোষী? কী বোঝাতে চাইছেন?”

এই কটাক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ জানান, “নন্দিনীদি আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, তাঁর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। যদিও তাঁর স্বামী অতীতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। আমি কখনও অভয়ার বাবা-মাকে অসম্মান করিনি, বরং তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন বারবার বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তৃণমূলবিরোধীরা যা বলছে, তাঁরাও সেই পথে হাঁটছেন, এতে তাঁদের গুরুত্ব কমছে।”

পরিশেষে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমার প্রিয় কোনও বউদি যদি আমাকে রূঢ় বলেন, তাহলে আমি বলতে চাই, আমি একেবারেই রূঢ় নই। বিষয়টি নির্ভর করছে কে কোথায় লক্ষ্য করছেন, আর কে কোথায় আঘাত পাচ্ছেন। কারও ব্যক্তিগত ক্ষোভ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তা ঠিক হবে না।”