“ব্রহ্ম মুহূর্তের অপেক্ষা করছিলেন পুণ্যার্থীরা…'”-মহাকুম্ভে ৩০ জনের মৃত্যুর কারণ জানালেন DIG

মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় ঘটে গেল একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সঙ্গম তীরের কাছে পদপিষ্টের ফলে ৩০ জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ৯০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে পদপিষ্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে।
প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলার ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ জানিয়েছেন, রাত ২টার দিকে সঙ্গমের কাছে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “পুণ্যার্থীরা ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান করার জন্য সঙ্গমে ভিড় করেছিলেন। ঠিক তখনই কিছু ভক্ত দর্শনের জন্য হাজির হন, যার ফলে পিছন থেকে আসা ভিড়ের কারণে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।”
ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ আরও জানান, “মৌনী অমাবস্যায় মহাকুম্ভের মূল স্নান ছিল এবং আখড়া মার্গে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। এসময় পুণ্যার্থীরা অন্যদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন, যার ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ৯০ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ৩০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।” তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং আহতদের বিষয়ে তথ্যের জন্য ১৯২০ নম্বরে একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
বিরোধীরা অভিযোগ করেছে যে, প্রশাসন ভিভিআইপি-দের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তবে বৈভব কৃষ্ণ এই অভিযোগ নস্যাৎ করে জানান, ২৯ জানুয়ারি কোনও ‘ভিভিআইপি মুভমেন্ট’ ছিল না এবং আগামী শাহি স্নানেও ভিভিআইপি-দের কোনও অনুমতি দেওয়া হবে না।
ঘটনার পর, স্নানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা স্থগিত করা হয়। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সমস্ত আখড়া অমৃত স্নানে অংশ নেয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ভক্ত স্নান করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সঙ্গমে ভক্তদের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সকলেই ভোর ৩টেয় ব্রহ্ম মুহূর্তে শাহি স্নান করতে চেয়েছিলেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য মেলা এলাকায় নির্মিত কেন্দ্রীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অনেকের আত্মীয়স্বজন সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনাটি জানার পর ইউপি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে চারবার ফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।