নেপাল সীমান্তে গা ঢাকা দিয়েও মিললো না রেহাই, গ্রেপ্তার ট্যাবের টাকা চুরির ‘মাস্টারমাইন্ড’

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াকে ট্যাব দুর্নীতি কাণ্ডের ‘এপিসেন্টার’ বলে মনে করছিলেন তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত সেই চোপড়া থেকেই এই দুর্নীতির মূল চক্রীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি মাঝিয়ালি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মুফতাজুল ইসলাম। প্রায় তিন মাস ধরে পলাতক থাকার পর বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিন মাস ধরে লুকিয়ে ছিলেন নেপাল সীমান্তের কাছে
পুলিশের দাবি, তদন্ত চলাকালীন বারবার তাঁর নাম উঠে আসছিল। তিনি বিভিন্ন জায়গায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চোপড়ায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার জানান, বর্ধমান, মেদিনীপুর, মালদা, কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় ট্যাব দুর্নীতির তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছিল। পুলিশের দাবি, এতদিন ধরে তিনি নেপাল সীমান্তের কাছেই লুকিয়ে ছিলেন।
সাইবার ক্রাইম থানার তদন্তেই ফাঁস হল ষড়যন্ত্র
ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জবি থমাস জানিয়েছেন, সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, মুফতাজুল ইসলামই এই দুর্নীতির মূল চক্রী। বুধবার চোপড়ার মাঝিয়ালি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্কুল থেকেই শুরু হয় জালিয়াতির চক্র
তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১০ বছর ধরে মাঝিয়ালি স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি। ২০২২ সালে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন মুফতাজুল ইসলাম। তাঁর স্কুল থেকেই ট্যাব দুর্নীতির এই জালিয়াতি চক্রের কাজ শুরু হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানার জন্য তদন্ত জারি রয়েছে।