“আশা করছি, বন্ধ হবে”-ভারতের দিকে আঙুল তোলায় কানাডাকে জবাব দিল্লির

খলিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের পর ভারত-কানাডা সম্পর্কের মধ্যে যে চিড় ধরেছিল, এবার সেই সম্পর্ক আরও জটিল হতে চলেছে। কানাডার বিদেশি হস্তক্ষেপ কমিশন এক নতুন রিপোর্টে দাবি করেছে, কানাডার নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে চিনের পরেই ভারত সবচেয়ে সক্রিয় দেশ। তবে, ভারতের বিদেশমন্ত্রক তৎক্ষণাৎ এই অভিযোগ খারিজ করে জানায়, কানাডাই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে লাগাতার হস্তক্ষেপ করছে।
ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানায়, “আমরা রিপোর্টটি দেখেছি, যেখানে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, কানাডা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অব্যাহত হস্তক্ষেপ করছে, বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন এবং সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে।” তারা আরও জানায়, “আমরা আশা করি, কানাডা অবৈধ অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া বন্ধ করবে।”
কানাডার বিদেশি হস্তক্ষেপ কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্টে চিনকে নিশানা করা হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয়েছিল চিন কানাডার বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে। কিন্তু চূড়ান্ত রিপোর্টে ভারতকে দ্বিতীয় সবচেয়ে সক্রিয় দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া কমিশনার মারি জোস হগ লিখেছেন, “ভারতও কূটনৈতিক অফিসার এবং প্রক্সি এজেন্টদের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করেছে।”
এদিকে, এই রিপোর্টের জেরে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। গত বছরের জুনে কানাডায় খলিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর সেপ্টেম্বরে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেন, ভারতীয় এজেন্ট এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ভারত এই দাবি তৎক্ষণাৎ অস্বীকার করে এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে।
এখন, কানাডার নতুন অভিযোগে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি হতে পারে, এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।