সত্যিই কি মিলছে না আঙুলের ছাপ? সইফ কাণ্ডে ধরা পড়লো কে? কী বলছে মুম্বই পুলিশ?

সইফ আলি খানের উপর হামলার ঘটনার পর, পুলিশ গ্রেপ্তার করা অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শেহজাদ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চার সৃষ্টি করেছে। সোমবার, ‘মিড ডে’ পত্রিকা এক সূত্রের মাধ্যমে দাবি করে, অভিযুক্তের আঙুলের ছাপ সইফের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা আঙুলের ছাপের সঙ্গে মেলে না। তবে, মুম্বই পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তদন্তের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেছে।
আঙুলের ছাপ নিয়ে জল্পনা
মুম্বই (পশ্চিম) এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, পরমজিৎ সিং দাহিয়া একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “সইফ আলি খানের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তের আঙুলের ছাপ সিআইডিতে পাঠানো হয়েছিল, তবে এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও দাবি করেছেন যে, আঙুলের ছাপের মেলবন্ধন নিয়ে যেসব জল্পনা চলছে তা ভিত্তিহীন। “আমরা শারীরিক, মৌখিক এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পেয়েছি, যা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আমাদের তদন্তকে আরও শক্তিশালী করেছে,” বলেন তিনি।
ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি
এদিকে, ‘মিড ডে’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্তের আঙুলের ছাপ এবং সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া ছবির মধ্যে কোনও মিল পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয় যে, ১৯টি আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল, কিন্তু অভিযুক্তের আঙুলের ছাপের সঙ্গে সেগুলি মেলেনি। পুলিশ প্রায় ৪০টি দল গঠন করে ৭২ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করেছিল, কিন্তু এই জল্পনা উত্থাপিত হয়েছে যে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ভুল।
ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সন্দেহভাজনের ছবি অত্যন্ত ঝাপসা ছিল এবং ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও ছবির মান উন্নত করা সম্ভব হয়নি। তবে, মুম্বই পুলিশের ডিসিপি দীক্ষিত গেদাম জানিয়েছেন, ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি ছাড়া অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। “ফেস রেকগনিশনের বিকল্পও আমাদের কাছে রয়েছে, এবং এটি তদন্তের অংশ,” বলেন তিনি।
অভিযুক্তের বাবা দাবি করেছেন নির্দোষ
অন্যদিকে, শরিফুলের বাবা, মহম্মদ রুহুল আমিন, সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর কাছে দাবি করেছেন, তার ছেলে নির্দোষ এবং মুম্বই পুলিশ ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার ছেলের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে, মুম্বই পুলিশের ডিসিপি গেদাম এই বিষয়ে বলেন, “অভিযুক্তের বাবা কী বলছেন, তা আমাদের কাছে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
নতুন দিক
এই ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং পুলিশ দাবি করছে যে, তারা সঠিক পথেই চলছে। তাছাড়া, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শরিফুল কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ছিল এবং এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। সামাজিক মাধ্যমে এবং সংবাদ মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকায়, পুলিশ ও সিআইডির মধ্যে বিরোধের কারণে জনমনে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, এবং তদন্তের সঠিক ফলাফল কী হবে, তা সময়ই বলবে।
সইফ আলি খানের উপর হামলা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান, এবং পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উত্থাপিত প্রশ্নগুলির প্রেক্ষিতে, মুম্বই পুলিশের কাছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।