চাকরির খবর: ৮৮১ টি সরকারি চাকরি, রাজ্যে হতে চলেছে বড় উদ্যোগে নিয়োগ, জেনেনিন বিস্তারিত

শহরে সরকারি বাসের সংখ্যা কমছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করছেন সাধারণ মানুষ। শহরের রাস্তায় পর্যাপ্ত সরকারি বাস না থাকার ফলে বাসযাত্রীদের অসুবিধার কথা একাধিকবার উঠে এসেছে। অবশেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ৯০০ জন চুক্তিভিত্তিক চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত
সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, ৮৮১ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৭ জন চালক এবং ৩৯৪ জন কন্ডাক্টর হিসেবে যোগ দেবেন।

পরিবহণ সংকটের কারণ
কিছুদিন আগেই নবান্নে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তীকে রাস্তায় পর্যাপ্ত সরকারি বাস না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। খোদ মন্ত্রীকে রাস্তায় নেমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাসের অভাব নেই, কিন্তু চালক ও কন্ডাক্টরের ঘাটতির কারণে বাস পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১৫ জন চালক ও কন্ডাক্টর অবসর গ্রহণ করছেন। কিন্তু নতুন কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় এই অভাব মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন নিয়োগের প্রত্যাশা
পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের মতে, শহরে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০টি সরকারি বাস চলাচল করে। বাসগুলি গড়ে ৩,০০০ ট্রিপে চলাচল করত। নতুন চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের ফলে প্রতিদিন ৪,২০০ ট্রিপ চালানো সম্ভব হবে। এর ফলে যাত্রীদের অভিযোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

বাস পরিষেবা বাড়ানোর লক্ষ্য
নতুন কর্মী নিয়োগের ফলে একটি বাসকে দিনে আরও বেশি বার ব্যবহার করা যাবে। পরিবহণ দফতর আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের রাস্তায় বাসের অপ্রতুলতার সমস্যা কার্যত মিটে যাবে।

লোকডাউনের পর প্রথম নিয়োগ
উল্লেখ্য, কোভিড-পরবর্তী সময়ে রাজ্যে পরিবহণ দফতরে কোনো কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অস্থায়ী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

যাত্রীদের প্রত্যাশা
সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, তারা আশাবাদী যে এই কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সরকারি বাস পরিষেবা আগের মতোই নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল হবে।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত শহরের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরী করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।