VIRAL-হওয়ার বিড়ম্বনা, মহাকুম্ভে ফুঁপিয়ে কান্না করলেন ‘ক্লান্ত’ IIT বাবা, জেনেনিন কেন?

প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় ‘আইআইটি বাবা’ নামে পরিচিত অভয় সিং আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি তার একটি আবেগঘন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা যায় এবং তিনি জানান যে তিনি আর ‘আইআইটি বাবা’ নামে পরিচিত হতে চান না। তার মতে, এই জনপ্রিয়তা তার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘আইআইটি বাবা’ ট্যাগের প্রতি বিরক্তি:

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে অভয় সিং স্পষ্টভাবে বলেন, “এই ‘আইআইটি বাবা’ ট্যাগ আমার ভালো লাগে না। আমি জনপ্রিয়তা চাই না। আইআইটি থেকে বাবার গল্প এখন বন্ধ হওয়া উচিত। লোকেরা আমাকে আমার অতীতের সাথে জুড়ে দিচ্ছে, যেখান থেকে আমি বেরিয়ে এসেছি। তারা আমার নামের সাথে ‘আইআইটি’ ও ‘বাবা’ যোগ করছে, যা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”

জনপ্রিয়তা থেকে মুক্তি চান অভয়:

অভয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কখনও নিজের পরিচয় জাহির করেননি। তার পরিবারের সদস্যরা তার আইআইটি থেকে পড়াশোনার কথা বলতেন, কিন্তু তিনি নিজে কখনও এই নিয়ে গর্ব করেননি। তিনি বলেন, “যখন আমি পরিচিত ছিলাম না, তখন প্রয়াগরাজে যেখানে খুশি বসতাম, গল্প করতাম, খেতাম। কেউ আমার দিকে খেয়াল করত না। কিন্তু এখন এই পরিচিতি আমাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দিচ্ছে।”

‘শান্তি চাই, দৃষ্টি আকর্ষণ নয়’:

অভয় সিং আরও জানান যে তিনি কারও মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান না। তার একমাত্র লক্ষ্য আধ্যাত্মিকতা। তিনি বলেন, “আমি শুধু শান্তি চাই। মহাকুম্ভে কীভাবে শান্তি পাওয়া যায়, তা একমাত্র ভোলেনাথই জানেন। আমি আমার ধ্যান চালিয়ে যেতে চাই, কোনো খ্যাতি বা বাহবা চাই না।”

অভয়ের পটভূমি:

অভয় সিং আইআইটি বম্বে থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি কানাডায় কাজ করেছেন এবং সেখানে ফটোগ্রাফিও শিখেছেন। পরবর্তীতে জীবনের গতি পরিবর্তন করে আধ্যাত্মিকতাকে বেছে নেন এবং পরিবার ছেড়ে চলে যান। কিছু সময় তিনি আখড়ায় সাধুদের সাথে কাটিয়েছেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি একাকী আধ্যাত্মিক পথে চলছেন।

‘আইআইটি বাবার গল্প শেষ হওয়া উচিত’:

অভয়ের এই মন্তব্য তার অনুগামী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ তার জনপ্রিয়তার প্রতি বিরক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে অভয়ের মতে, এই পরিচিতির অবসান তার জন্য জরুরি, যাতে তিনি তার আধ্যাত্মিক লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারেন।

এই ঘটনাটি খ্যাতির দ্বিমুখী প্রভাব এবং ব্যক্তিগত পছন্দের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে। অভয় সিংয়ের এই আকুতি প্রমাণ করে যে বাহ্যিক পরিচিতি বা খ্যাতি আধ্যাত্মিক পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে।