বিশেষ: দেশের অর্থনীতি শোধরাতে কেন্দ্রের ভরসা সেই রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কই, রইলো বিশেষ প্রতিবেদন

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, মুডিজ-এর মতো বিভিন্ন উপদেষ্টা সংস্থা ভারতের জাতীয় বৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস কমানোর পরে এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-ও তাদের ঋণনীতি ঘোষণার সময় বৃদ্ধির হার কমানোর পরে, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য কেন্দ্র সরকারের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে আরবিআই। অর্থনীতিবিদদের মতে, টাকার দামে পতন ঠেকাতে আরবিআই আরও একবার কেন্দ্রকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ দিতে পারে।
লভ্যাংশের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান:
আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের অনুমান, আরবিআই কেন্দ্রকে ২ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত হস্তান্তর করতে পারে। অন্যদিকে, কোয়ান্টো রিসার্চের মতে, মার্চের মধ্যে আরবিআই অর্থ মন্ত্রককে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে দেবে। এই বছরের শুরুতে আরবিআই কেন্দ্রকে ২.১ লক্ষ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছিল।
আরবিআই কিভাবে লভ্যাংশ দেয়:
প্রতি বছর আরবিআই তাদের মজুত থাকা ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়ের উদ্বৃত্ত কেন্দ্রকে দিয়ে থাকে। এছাড়াও, কারেন্সি নোট ছাপানোর জন্য পাওয়া ফি থেকেও কিছু অংশ কেন্দ্রকে দেওয়া হয়। উদ্বৃত্ত অর্থের কিছু অংশ নিজেদের মূলধন শক্তিশালী করার জন্য রেখে দিলেও, বেশিরভাগ অংশই কেন্দ্রের হাতে তুলে দেয় ভারতের শীর্ষ ব্যাঙ্ক।
সরকারের প্রত্যাশা:
মে মাসে আরবিআই-এর কেন্দ্রীয় পর্ষদ কেন্দ্রকে কত টাকা দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করে দিলেও, বাজেটের আগে সরকার আরবিআই-এর কাছ থেকে আরও কত টাকা পেতে পারে তার একটি হিসাব করে। দুর্বল ভোগব্যয় এবং কম বেসরকারি বিনিয়োগের কারণে ভারতের অর্থনীতি যে সমস্যার সম্মুখীন, আরবিআই-এর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ পেলে সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতামত:
বার্কলেজ পিএলসি-র অর্থনীতিবিদ আস্থা গুডওয়ানির মতে, আরবিআই-এর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ পেলে কেন্দ্র কর্পোরেট ট্যাক্স এবং বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া থেকে কম আয়ের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পিএলসি-র অনুভূতি সহায় মনে করেন, কেন্দ্র আরবিআই-এর উদ্বৃত্ত অর্থের দিকে তাকিয়ে আছে এবং আরবিআই বিপুল লভ্যাংশ কেন্দ্রকে দেবে বলেই তার আশা। সাধারণত জিডিপির ০.১% থেকে ০.৪% অর্থ ট্রান্সফার করা হলেও, এই দফায় জিডিপির ০.৫% থেকে ০.৫৫% অর্থ ট্রান্সফার হতে পারে।
ডলার বিক্রির প্রভাব:
টাকার দামে পতন ঠেকাতে আরবিআই গত বছর থেকে ক্রমাগত ডলার বিক্রি করে চলেছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-নভেম্বর পর্বে মোট ১৯৬ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করা হয়েছে। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের মতে, এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১১৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। সহায় মনে করছেন, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই অঙ্ক ২৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। আগে কম দামে ডলার কিনে রাখায় তা বিক্রি আরবিআই-এর জন্য লাভজনক। তবে আরবিআই গড়ে কত দামে ডলার কিনেছে তা প্রকাশ না করায় তাদের মোট মুনাফা নির্ধারণ করা কঠিন।
আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের অর্থনীতিবিদ সমীর নারাঙ্গ এবং তার দল মনে করেন, টাকার দামে পতন আটকাতে আরবিআই বেশি করে ডলার বিক্রি করায় তাদের লাভও বেশি হয়েছে। তাই কেন্দ্রকে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিতে পারে আরবিআই।