স্টার্ট আপ মানচিত্রে এগোচ্ছে রাজ্য, বাড়ছে উদ্যোক্তার সংখ্যা

ভারতের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমে দ্রুত উন্নতি করছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রের ডিপার্টমেন্ট ফর প্রোমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড (ডিপিআইআইটি)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাজ্যে ১,১৭০টি স্টার্ট আপ সংস্থা ছিল। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৭৬। অর্থাৎ, মাত্র চার বছরে রাজ্যে স্টার্ট আপের সংখ্যা তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টার্ট আপ দিবস। এই বিশেষ দিনের আগে স্টার্ট আপ ক্ষেত্রে রাজ্যের এই অগ্রগতি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

বণিকসভা সিআইআইয়ের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং টাটা স্টিল ডাউনস্ট্রিম প্রোডাক্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সন্দীপ কুমারের মতে, পশ্চিমবঙ্গ উদ্ভাবন এবং নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করছে। তিনি বলেন, “সরকার, বিভিন্ন বণিকসভা এবং বেসরকারি সংস্থা সম্মিলিতভাবে স্টার্ট আপগুলিকে সহায়তা করছে। এই সহায়তা মেন্টরিং, আর্থিক সাহায্য এবং ইনকিউবেটর তৈরির মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।”

সরকারি উদ্যোগ:

নতুন উদ্যোগপতি তৈরি করার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টার্ট আপ পলিসি। এই নীতির আওতায় নতুন সংস্থাগুলি সরকারের কাছ থেকে আর্থিক এবং পরিকাঠামো সহায়তা পেয়ে থাকে।

কলকাতার ভূমিকা:

সন্দীপ কুমার জানান, টেকনোলজি স্টার্ট আপের জন্য কলকাতা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শহরে ইনকিউবেটর এবং কো-ওয়ার্কিং স্পেসের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, “কলকাতার ইকোসিস্টেম ফিনটেক, হেল্থটেক, এডটেক এবং ই-কমার্স ক্ষেত্রের নতুন উদ্যোগপতিদের আকর্ষণ করছে। এর ফলে কলকাতার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের বার্ষিক বৃদ্ধির হার এখন ৭০ শতাংশ।”

ছোট শহরেও প্রসার:

শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের ছোট শহরগুলিতেও স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমের প্রসার ঘটেছে, যা রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।