মার্চের মধ্যে ৪ লক্ষ প্রিপেড স্মার্ট মিটার, বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে বিদ্যুৎ পর্ষদ

প্রিপেড স্মার্ট মিটারে জোর, মার্চের মধ্যে ৪ লক্ষ বসানোর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার
কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ৪ লক্ষ প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। কেন্দ্রের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (আরডিএসএস) এর আওতায় রাজ্যে ৪৫ লক্ষ প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬০ হাজারের মতো মিটার বসানো হয়েছে।
কোথায় কত মিটার বসানো হয়েছে:
বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সরকারি সংস্থার অফিস, কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ইসক্রামেকো ইন্ডিয়া ১ লক্ষ ১০ হাজারের মতো প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসিয়েছে।
বারাসত, মধ্যমগ্রাম ও কল্যাণীতে বণ্টন সংস্থা ৫০ হাজারের কিছু বেশি গার্হস্থ্য গ্রাহকের বাড়িতে এই মিটার বসিয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা:
আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ইসক্রামেকো আরও ৫০ হাজার এবং বণ্টন সংস্থা দেড় লক্ষের মতো মিটার বসানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রিপেড ব্যবস্থা:
বণ্টন সংস্থা যে ৫০ হাজারের মতো প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসিয়েছে, তার মধ্যে ২৩ হাজার গ্রাহককে প্রিপেডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই গ্রাহকরা মোবাইলে রিচার্জের মতো বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আগাম টাকা ভরছেন। টাকা শেষ হয়ে গেলে তাদের আবার রিচার্জ করতে হবে। ন্যূনতম রিচার্জের পরিমাণ ১০০ টাকা।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে কি?
অ্যাকাউন্টে জমা টাকা ফুরিয়ে গেলে গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ তৎক্ষণাৎ বিচ্ছিন্ন হবে না। বণ্টন সংস্থা সব প্রিপেড গ্রাহককেই ৩০০ টাকা ক্রেডিট দিচ্ছে। এই ৩০০ টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না এবং গ্রাহক রিচার্জ করার সময় পাবেন।
অতিরিক্ত সুবিধা:
বণ্টন সংস্থা প্রিপেড স্মার্ট মিটারের গ্রাহকদের পোস্টপেড গ্রাহকদের তুলনায় ৩ শতাংশ অতিরিক্ত রিবেট দিচ্ছে। অর্থাৎ, ১০০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রাহক ১০৩ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল টাইম বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স জানতে পারবেন।
পোস্টপেড মিটার বদলে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য গ্রাহকদের কোনো টাকা দিতে হয়নি। বণ্টন সংস্থাই নিখরচায় মিটার বদলে দিয়েছে।
খরচের কারণ:
বণ্টন সংস্থার জন্য ৩৭ লক্ষ প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর বরাত পেয়েছে তিনটি সংস্থা। প্রতিটি স্মার্ট মিটারের ভাড়া বাবদ বণ্টন সংস্থা মাসে ৬০ টাকা দেবে। ইসক্রামেকো ও অন্য একটি সংস্থা বাকি ৮ লক্ষ প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর বরাত পেয়েছে, যেখানে তারা মূলধন বাবদ বণ্টন সংস্থার কাছ থেকে কিছু অর্থ পাবে।
এই অতিরিক্ত খরচের কারণ ব্যাখ্যা করে রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের এক বিশেষজ্ঞ জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ন’মাসে বণ্টন সংস্থার নগদ ঘাটতি প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বণ্টন ও বাণিজ্যিক খাতে ক্ষতি প্রায় ২০ শতাংশ। অনেক ক্ষেত্রে বিলিংয়ের সমস্যাও রয়েছে। পোস্টপেডের বদলে প্রিপেড ব্যবস্থা চালু করলে এই সমস্যাগুলির অনেকাংশে সমাধান হবে।