ভারতে সমলিঙ্গ বিবাহে কি আইনি স্বীকৃতি মিলবে? রায়ে যা জানাল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে সমলিঙ্গ বিবাহের আইনি স্বীকৃতি মিলবে কিনা, এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে সমাজের বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এই আবহে, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার একগুচ্ছ আর্জি খারিজ করে দেওয়ায়, আপাতত এই বিষয়ে আইনি জটিলতা অব্যাহত রইল।

এলজিবিটিকিউআইএ+ সম্প্রদায়ের মানুষরা বিবাহের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে এই সংক্রান্ত আগের রায়ে কোনও ভুল নেই। অর্থাৎ, সমলিঙ্গ বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এখনও আইনসভার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।

২০২৩ সালে, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সমলিঙ্গ বিবাহ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল। সেই রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, একমাত্র সংসদ বা বিধানসভাই পারে সমলিঙ্গের বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিতে। আদালত কেবল আইনের ব্যাখ্যা করতে পারে, নতুন আইন তৈরি করতে পারে না। যদিও আদালত সমলিঙ্গ সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু বিবাহের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি আইনসভার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়েছে।

এই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আদালতে একাধিক আর্জি জমা পড়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই সংক্রান্ত শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। এছাড়াও, ২০২৩ সালে যে বেঞ্চ এই রায় দিয়েছিল, সেই বেঞ্চের অধিকাংশ বিচারপতি অবসর নেওয়ায় নতুন করে বেঞ্চ গঠন করতে হয়।

অবশেষে, বিচারপতি বিআর গভাই, বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি বিভি নাগরত্ব, বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনগুলি পর্যালোচনা করে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর, পূর্বের রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার পুনর্বিবেচনার সমস্ত আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে, ভারতে সমলিঙ্গ বিবাহের আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার আশা আপাতত স্থগিত হয়ে গেল। এখন, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়কে আইনসভার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, ভারতে সমলিঙ্গ বিবাহের আইনি স্বীকৃতি একটি জটিল এবং সংবেদনশীল বিষয়, যা আইনি এবং সামাজিক উভয় দিক থেকেই আরও আলোচনার দাবি রাখে।