কিস্তির টাকা মেটালেও বকেয়া চেয়ে চিঠি, মাইক্রোফিনান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

শিলিগুড়িতে একটি মাইক্রোফিনান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ঋণ দেওয়ার নামে মহিলাদের প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ঋণ পরিশোধ করার পরেও গ্রাহকদের বকেয়া চেয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সোমবার শিলিগুড়ির চুনাভাটির কৃষ্ণা দত্ত নামে এক মহিলা এই অভিযোগ নিয়ে এনজেপি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কৃষ্ণার অভিযোগ:

কৃষ্ণা দত্ত জানান, তিনি একটি মাইক্রোফিনান্স কোম্পানি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং কয়েকটি কিস্তিতে সেই টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, কোম্পানি থেকে তাকে বকেয়া চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকি, দশ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:

কৃষ্ণা যখন কোম্পানির স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করেন, তখন তাকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং ঋণ পরিশোধের একটি সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে নোটিশ আসে। এরপরই কৃষ্ণা এনজেপি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গেছে, কৃষ্ণার মতো আরও দুই-তিন জন গ্রাহক একই ধরনের সমস্যার শিকার হয়েছেন।

প্রতারণার কৌশল:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনজেপি থানার চুনাভাটি এলাকায় একটি মাইক্রোফিনান্স সংস্থা একটি অফিস খোলে। তারা দশ জন মহিলাকে নিয়ে এক-একটি গ্রুপ তৈরি করত এবং সেই গ্রুপের মহিলাদের ঋণ দিত। সংস্থার একজন এজেন্টের মাধ্যমে গ্রুপগুলিতে ঋণ বিতরণ করা হতো এবং সেই এজেন্টই কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে সংস্থায় জমা দিত। অভিযোগ, কৃষ্ণা সহ গ্রুপের আরও তিন মহিলা এজেন্টের মাধ্যমে তাদের ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে, সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়।

এজেন্ট ও কোম্পানির ভূমিকা:

অভিযোগ, কৃষ্ণা যখন এজেন্টকে এই বিষয়ে জানান, তখন সে গা ঢাকা দেয়। স্থানীয় অফিসের ম্যানেজার প্রথমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীতে সংস্থার সদর দপ্তর থেকে ক্রমাগত তাগাদা আসতে থাকায়, শেষ পর্যন্ত গ্রাহকরা পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য হন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সংস্থার অফিসে তালা ঝুলছে এবং ম্যানেজারের ফোনও বন্ধ রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য:

শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।