পোশ্য বিড়ালের খোঁজে ১০,০০০ টাকা পুরুস্কার, হুলুর জন্য টোটোয় চেপে দক্ষিণ–পন্থী নির্মলা!

নদিয়ার বীরনগরের ফল বিক্রেতা নির্মল বিশ্বাস গত ১৮ দিন ধরে তার প্রিয় পোষ্য বিড়াল ‘হুলু’কে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। হুলুকে খুঁজে দেওয়ার জন্য তিনি ১০,০০০ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। কিন্তু নির্মলের হুলু খোঁজার পদ্ধতিটি স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

গণৎকার নির্মলকে বলেছিলেন হুলু ‘দক্ষিণ’ দিকে গিয়েছে। সেই থেকে নির্মল শুধু ডান দিকেই খোঁজ করছেন। ডান দিকের যেকোনো রাস্তা দেখলেই তিনি সেখানে ঢুকে পড়ছেন এবং আবার ডান দিকের রাস্তা খুঁজছেন। একই পথে বার বার ঘুরতে তার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু তিনি কিছুতেই বাঁ দিকে যাচ্ছেন না। এই কারণে বীরনগরের মানুষজন তাকে আড়ালে ‘দক্ষিণপন্থী’ বলেও ডাকছেন।

টোটোতে মাইক বেঁধে হুলুর নিখোঁজ হওয়ার ঘোষণা করছেন নির্মল। এই প্রচার দেখে অনেকেই প্রথমে থমকে দাঁড়াচ্ছেন এবং ভাবছেন, হুলু কে? পরে জানতে পারছেন হুলু আসলে একটি বিড়াল।

ষাটোর্ধ্ব নির্মল বীরনগরের স্মরজিতপল্লিতে থাকেন এবং রেল বাজারের ফুটপাথে ফল বিক্রি করেন। হুলুর জন্য তিনি খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। শুধু চা-মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, মাঝে মাঝে ফুটপাথের দোকান থেকে রুটি খাচ্ছেন।

হুলুর খোঁজে নির্মল পালিতপাড়া ও রানাঘাটের ঠাকুরবাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেখানেই এক গণৎকার তাকে বলেন, “বেড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। দখিনে চলে যাও। ওদিকে গিয়ে খোঁজ।” সেই থেকেই নির্মল শুধু ডান দিকের রাস্তায় হুলুকে খুঁজে চলেছেন।

নির্মলের স্ত্রী ছবি জানান, পাঁচ বছর আগে হুলুকে তারা বাড়িতে এনেছিলেন এবং সে তাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছিল। তারা হুলুকে মাছ ও দুধ-ভাত দিতেন। হুলু দিনের বেলা আশেপাশে ঘুরলেও সময়মতো বাড়ি ফিরে আসত, কিন্তু ১৮ দিন আগে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি।

নির্মলের ছেলে গোবিন্দ জানান, হুলু রাতে তার খাটের পাশে ঘুমাতো এবং ভোরে বাবার সাথে দেখা করতে যেত। হুলুকে খুঁজে দেওয়ার জন্য ১০,০০০ টাকা পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নির্মল নিজেই নিয়েছেন।

নির্মল এখন এতটাই চিন্তিত যে তিনি পুলিশের কাছেও যাওয়ার কথা ভাবছেন। স্থানীয় এক বাড়িতে হুলু মাঝে মাঝে যেত, তাই তাদের উপর সন্দেহ করছেন নির্মল।

হুলু সত্যিই কোনো ‘মেনি’র খোঁজে ‘ডানদিকে’ গিয়েছে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।