গোল্ড লোন বাড়ছে, মাত্রাতিরিক্ত ‘ঋণ’ নিয়ে চিন্তায় শীর্ষ ব্যাঙ্ক, জেনেনিন কেন?

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) একটি রিপোর্টে জানিয়েছে যে দেশে সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা শীর্ষ ব্যাঙ্কটির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরবিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসে গোল্ড লোনের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্রুত হারে বেড়েছে। এর অর্থ হল, সাধারণ মানুষ তাদের আর্থিক চাহিদা মেটাতে ক্রমশ সোনা বন্ধক রাখার উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ড লোনের আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আরবিআই গত বছরের ৩০শে সেপ্টেম্বর একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকায় স্বর্ণঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের গোল্ড লোন সংক্রান্ত নীতি, প্রক্রিয়া এবং কার্যকলাপ পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

গোল্ড লোন প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব ফাঁকফোকর ধরা পড়েছে তার মধ্যে কয়েকটি হল:

তৃতীয় পক্ষের সংস্থা (থার্ড পার্টি) নির্বাচনের সময় যথাযথ যাচাই না করা।
ঋণ দেওয়ার সময় বন্ধক রাখা সোনার সঠিক মূল্যায়ন না করা।
অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান।

ঋণ হিসেবে নেওয়া অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তার উপর পর্যাপ্ত নজরদারি না রাখা।
কিছু সুপারভাইজ়রি সংস্থার গোল্ড লোন গ্রাহকের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় কোনো অনৈতিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্যই আরবিআই এই নির্দেশিকা জারি করেছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল সংস্থাগুলি (এনবিএফসি) গোল্ড লোনের বাজারের একটা বড় অংশ নিজেদের দখলে রেখেছে। আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাঙ্ক এবং এনবিএফসিগুলির দেওয়া মোট গোল্ড লোনের ৫৯.৯ শতাংশই এনবিএফসিগুলির অধীনে রয়েছে। আরবিআই মনে করে, সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা একটি উদ্বেগের বিষয়।

গোল্ড লোন বাড়লেও অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে একই গতি দেখা যাচ্ছে না; বরং কিছু ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে অসুরক্ষিত ব্যক্তিগত ঋণ (আনসিকিওরড পার্সোনাল লোন) নেওয়া কমেছে। ক্ষুদ্রঋণ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণের বৃদ্ধির হারও গত বছরে ৬৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে রিপোর্টে প্রকাশ।

এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং এই বিষয়ে আরবিআই সজাগ দৃষ্টি রাখছে।