বিশেষ: 31st-এর ফানুস যেন না হয় মৃত্যুর কারণ, জেনেনিন ফানুস ওড়ানোর ইতিহাস

বছরের শেষ দিন অর্থাৎ থার্টি ফার্স্ট নাইটে পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নানান আয়োজন করা হয়। অনেক দেশে এই সংস্কৃতি বহুকাল ধরে চলে আসছে। তবে কিছু সতর্কতা ও নিয়ম না মানায় ফানুসের আগুনও হয়ে উঠতে পারে মানুষের মৃত্যুর কারণ।

উৎসবপ্রিয় বাঙালির উদযাপনে যুক্ত হয়েছে আতশবাজি, পটকা, ফানুস। আনন্দ-আয়োজন বাড়িয়ে দিলেও এ যেন মৃত্যুফাঁদ পেতে রাখে। বিগত দিনে ফানুসের আগুন ঘরবাড়িতে লাগার ঘটনা খবরের শিরোনাম হতে দেখা গেছে।

ফানুসের ইতিহাস
‘আকাশ লণ্ঠন’ বা ফানুস একটি চীনা শব্দ। একে ‘আকাশ মোমবাতি’ বা ‘অগ্নি বেলুন’ নামেও উল্লেখ করা হয়। আর বৌদ্ধ পরিভাষায় এর নাম হলো, ‘আকাশ-প্রদীপ’।

লোককথায় রয়েছে গৌতম বুদ্ধ অর্থাৎ রাজকুমার সিদ্ধার্থ জাগতিক সব দুঃখ থেকে মুক্তি লাভের আশায় রাজ্য, রাজত্ব, ভোগ-বিলাস, ধনকুম্ভ সব ত্যাগ করে সংসার পরিত্যাগ করেন শুভ আষাঢ়ি পূর্ণিমা তিথিতে। রাজ-আবরণ ছন্দককে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি সন্ন্যাস-ব্রত গ্রহণ করার পর ভাবলেন, ‘আমি এখন সন্ন্যাসী, রাজকীয় বাহারি চুল আমার কি প্রয়োজন?’

যেমন ভাবা তেমন কাজ, সঙ্গে সঙ্গে ধাঁরালো তরবারি দিয়ে চুলের গোছা কেটে মনে মনে সংকল্প করেন, ‘যদি বুদ্ধ হওয়ার মতো সব গুণ আমার মধ্যে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বদিকে নিক্ষিপ্ত চুলের গোছা মাটিতে না পড়ে আকাশে স্থিত থাকুক।’ এই সংকল্প করে তিনি চুলের গোছা ওপরের দিকে নিক্ষেপ করেন। আশ্চর্যজনকভাবে একটি চুলও মাটিতে পড়ল না।

বৌদ্ধধর্ম মতে, স্বর্গের ইন্দ্ররাজা চুলগুলো হীরা, মণি, মানিক্যখচিত স্বর্ণপাত্রে ধারণ করে তাবতিংস স্বর্গে কেশ-ধাতু স্থাপন করে একটি চৈত্য নির্মাণ করেন এবং এই চৈত্যের নাম রাখা হয় ‘চুলামনি চৈত্য’। স্বর্গের দেবতারা এখনও এর পূজা করেন।

কিন্তু পৃথিবীর বুদ্ধভক্ত পূজারীরা তো আর পূজার জন্য স্বর্গে যেতে পারেন না। তাই তারা পরম শ্রদ্ধায় কাগজের ফানুস তৈরি করে একটি বিশেষ দিনে ধর্মীয় রীতি মেনে চুলামনি চৈত্যকে পূজার উদ্দেশে আকাশ-প্রদীপ হিসেবে ফানুস উড়িয়ে থাকেন।

ধর্মীয় গাথা বা মন্ত্র পাঠ করে খালি পায়ে বৌদ্ধরা ফানুস উড়িয়ে দেন। মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাধু-ধ্বনির সুরে সুরে ফানুস উড়ানো হয়। আষাঢ়ি পূর্ণিমাতে বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক সময় ফানুস ওড়ানোর পরিবেশ এবং সুযোগ কোনোটিই থাকে না। তাই প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানো হয়। তবে এখন যে কোনো আনন্দ আয়োজনেই ফানুস ওড়ান সবাই। থার্টি ফার্স্টের রাতে আকাশ ছেয়ে যায় ফানুসে, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।