শিক্ষার অধিকার আইনে আসছে বদল, ৫ ম ও ৮ম শ্রেণিতে কীভাবে ফিরবে পাশ-ফেল?

কেন্দ্রীয় সরকার পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফের পাশ-ফেল প্রথা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন ধরে প্রচলিত ‘নো ডিটেনশন নীতি’ বা ফেল না করানোর নীতি এবার বদলাতে চলেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার অধিকার আইনেও পরিবর্তন আসবে।

‘নো ডিটেনশন নীতি’ এবং সমালোচনা

‘নো ডিটেনশন নীতি’ চালু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষাবিদদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। একাংশের মতে, এই নীতির ফলে শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনে মনোযোগ কমে যায় এবং শিক্ষার মান নিম্নগামী হয়। তাদের দাবি ছিল, পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়ায় শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন।

ফেল হওয়ার উদাহরণ

শিক্ষাবিদদের এই যুক্তির একটি উদাহরণ হল গত বছর দিল্লির সরকারি স্কুলগুলির অষ্টম শ্রেণির ফল। ‘নো ডিটেনশন নীতি’ তুলে নেওয়ার পর দেখা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৪৬,৬২২ জন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী ফেল করেছে। এই ফলাফল থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে শিক্ষার মান কতটা নিচে নেমে গিয়েছিল।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি দিল্লি প্যারেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অপরাজিতা গৌতম। তিনি মনে করেন, পাশ-ফেল প্রথা পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষার মান উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হবে। তবে, এই নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে স্কুলের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।

স্কুলের দায়িত্ব বৃদ্ধি

অনেক শিক্ষাবিদ মনে করছেন, নতুন নিয়মে স্কুলগুলির ওপর শিশুদের প্রতি আরও বেশি দায়িত্ব বর্তাবে। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোনও শিক্ষার্থী ফেল করলে, তাকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাই শিক্ষকদের সারাবছর ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার দিকে নজর রাখতে হবে, যাতে তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। নতুন শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা যাবে না এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ পায়, সেদিকেও স্কুল কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে।

‘নো ডিটেনশন নীতি’ কী ছিল?

‘নো ডিটেনশন নীতি’ অনুসারে, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের কোনো শিশু কোনো স্কুলে ভর্তি হলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাকে কোনো শ্রেণিতেই ফেল করানো যেত না বা একই শ্রেণিতে দ্বিতীয়বার রাখা যেত না। এবার এই নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।