পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দেখুন ‘সন্তান’, জেনেনিন কেমন হলো এই সিনেমা?

অপেক্ষার অবসান। আজ (২০শে ডিসেম্বর) আপনাদের কাছের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘সন্তান’। এসভিএফ প্রযোজিত এই ছবিতে বাবা-ছেলের সম্পর্কের এক ভিন্ন সমীকরণ তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী, অনসূয়া মজুমদার, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং খরাজ মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীরা। বড়দিনের উৎসবের মরশুমে সপরিবারে দেখার মতো একটি ছবি দর্শকদের উপহার দেওয়া হচ্ছে বলে আশাবাদী ছবির কলাকুশলীরা।

গত মঙ্গলবার (১৭ই ডিসেম্বর) ছবির একটি বিশেষ প্রদর্শনী (স্পেশাল স্ক্রিনিং) আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত সকলেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সিনেমা শেষে অনেকের চোখেই জল দেখা যায়। সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পর্কের টানাপোড়েন যে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মন ছুঁয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সেই কারণেই ‘সন্তান’ টিম আরও বেশি আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা, ছবিটি বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের মনেও একই রকম আবেগ সৃষ্টি করবে।

‘দাদা সাহেব ফালকে’ সম্মানপ্রাপ্ত কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে এই ছবিতে শরদিন্দু বসুর চরিত্রে দেখা যাবে। তিনি পর্দায় এক বাবার চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, যিনি ন্যায়বিচার ও সম্মান খুঁজছেন। গল্পের বিভিন্ন বাঁকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে। ঋত্বিক চক্রবর্তী একটি জটিল চরিত্রকে খুব সহজেই পর্দায় তুলে ধরেছেন। বলা ভালো, তিনি খানিকটা ধূসর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘অন্য সময় প্রাইম’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঋত্বিক এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং চরিত্র বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বাস্তবে এমন সন্তান হওয়া উচিত নয়, তবে অভিনেতা হিসেবে এমন চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ হাতছাড়া করাও উচিত নয়। দর্শকদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন চরিত্র সহজে পাওয়া যায় না।’

মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনয় করাকে তিনি নিজের প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। মিঠুন চক্রবর্তীও ‘অন্য সময় প্রাইম’-এর সঙ্গে একান্তে বলেন, ‘ঋত্বিকের সঙ্গে যে ক’টা দৃশ্য ছিল, তার বেশির ভাগই ছিল খুব টেনসড সিচুয়েশন। এই ধরনের দৃশ্যে অভিনেতার দক্ষতা বোঝা যায়। ঋত্বিক ধারাবাহিকভাবে ভালো অভিনয় করেছে। হি ইজ় অ্যান এফর্টলেস অ্যাক্টর।’

মিঠুন ও ঋত্বিক দুজনেই পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর প্রশংসা করেছেন। মিঠুন বলেন, ‘এই ফিল্মটা পরিচালনা করা সহজ ছিল না। রাজ শুরু থেকেই জানত কী ভাবে কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে। অ্যান্ড হি হ্যাজ় মেড আ বিউটিফুল ফিল্ম।’ ঋত্বিকের মতে, ‘অভিনেতা ইম্প্রোভাইজ করতে চাইলে রাজ বাধা দেয় না। ও নিজেও অনেক কিছু ইম্প্রোভাইজ করে। পরিচালক হিসেবে ও খুবই লিবারাল।’

ছবিতে বাবা-ছেলের টানাপোড়েন আদালত পর্যন্ত গড়ায়, যেখানে শরদিন্দু ছেলের বিরুদ্ধে অবহেলা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ এনে সুবিচার চান। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উকিলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ‘অন্য সময় প্রাইম’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা সন্তানদের কাছে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ হয়ে যান। এমনটা দেখলে খারাপ লাগে। আমাদের ছবির মাধ্যমে যদি দুজনেরও চোখ খোলে, তাহলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। এমন একটা বিষয় নিয়ে ফিল্মটা তৈরি, যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে বলেই আশা রাখি।’

এই ফিল্মটি বৃদ্ধ অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে কিছু অপ্রিয় প্রশ্ন তুলবে। বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিন্ন আঙ্গিকে বড় পর্দায় ফুটে উঠবে। ড্রামা, ইমোশন ও একটি শক্তিশালী চিত্রনাট্যের এক দারুণ মিশেল রয়েছে এই ছবিতে। অনসূয়া মজুমদার মিঠুন চক্রবর্তীর স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে কৌশানী মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, সুদীপা চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন এবং প্রত্যেকেই সিনেমাটি দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

কৌশানী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে মানুষ যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন, তা দারুণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ফিল্মটি সত্যি আই ওপেনার। সমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে।’ রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে দেখার মতো একটি ছবি। অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দেখে চোখে জল আসতে বাধ্য।’ সুদীপা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক দিন পর একটা বাংলা ফিল্ম সিনেমা হলে গিয়ে দেখার ইচ্ছে হল। ‘সন্তান’ অনেক দিন পর বাংলা কমার্শিয়াল সিনেমার বাজারে নতুন এক ঢেউ আনল। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কমার্শিয়াল ছবির সুপারহিট হওয়া বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে জরুরি।’