পার্সেল খুলতেই বের হলো মৃতদেহ, হাসি বদলে গেল আতঙ্কে, হাড়হিম কাণ্ড অন্ধ্র প্রদেশে

অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ গোদাবরী এলাকায় এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। পার্সেলের জন্য অপেক্ষারত এক মহিলা পার্সেল খুলে ভেতরে একটি পচাগলা মৃতদেহ দেখতে পান। শুধু তাই নয়, মৃতদেহের সঙ্গে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা চেয়ে একটি হুমকি চিঠিও পাওয়া যায়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
জানা যায়, উন্দি মণ্ডলের ইয়েন্দাগন্দি গ্রামের বাসিন্দা নাগা তুলসী বাড়ি তৈরির জন্য স্থানীয় ক্ষত্রিয় সেবা সমিতির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। সমিতি নগদ অর্থের পরিবর্তে জিনিসপত্র দিয়ে সাহায্য করতে রাজি হয়। এর আগে তুলসীকে টাইলস পাঠানো হয়েছিল এবং পরে ইলেকট্রনিক সামগ্রী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তুলসী সেই পার্সেলের অপেক্ষায় ছিলেন।
একদিন তিনি হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পান, যেখানে বলা হয় শীঘ্রই ফ্যান, পাখা, আলো এবং সুইচবোর্ডের সামগ্রী ভর্তি একটি পার্সেল তার বাড়িতে পৌঁছবে।
বৃহস্পতিবার রাতে একজন ডেলিভারি বয় একটি বড় পার্সেল দিয়ে যান। কিন্তু পার্সেল খুলতেই তুলসী দেখেন ভেতরে একটি পচাগলা মৃতদেহ। এই দৃশ্য দেখে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার আদনান নইম আসমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পার্সেলটি কিভাবে এবং কোথা থেকে এসেছে তা জানার চেষ্টা করছে।
পার্সেলের ভেতর থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে তুলসীর পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ডেলিভারি বয় এর খোঁজ চালাচ্ছে এবং ক্ষত্রিয় সেবা সমিতির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে মৃতদেহটি ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের এবং চার-পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে অন্য কোথাও খুন করে দেহ লোপাটের জন্য পার্সেল ব্যবহার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানার জন্য নিকটবর্তী থানাগুলোর নিখোঁজ ডায়েরি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।