“স্বামীর ‘গার্লফ্রেন্ড’ আত্মীয় নন”-৪৯৮এ ধারায় অভিযোগ নিয়ে যা বললো সুপ্রিম কোর্ট

স্বামীর কোনো বান্ধবী অথবা যার সঙ্গে তার যৌন বা রোমান্টিক সম্পর্ক রয়েছে, তাকে স্বামীর ‘আত্মীয়’ ধরে নিয়ে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়, তাহলে তা আদালতে গ্রাহ্য হবে না—এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা (যা বর্তমানে বিএনএস ৮৫, ৮৭ ধারা) প্রয়োগের একটি মামলায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ মামলার শুনানিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ আদালতের সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
কর্নাটকের গান্ডুলুপেটেতে একটি আদালত ডেচাম্মা কৌশিক নামের এক মহিলার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ, ৫০৪, ১০৯ ধারায় এবং পণবিরোধী আইনের ৩ এবং ৪ ধারায় অভিযোগ দায়ের করে। কর্নাটক হাইকোর্টে ওই মহিলা অভিযোগ বাতিলের আবেদন করলে তা নাকচ হয়ে যায়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল এক মহিলা তার স্বামী আদিশেট্টি, স্বামীর ভাই অবিনাশ শেট্টি, স্বামীর কাকা নটরাজু এবং ওই কাকার জামাই প্রকাশ সহ ডেচাম্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগকারিণী মহিলার দাবি, বিয়ের আগে থেকেই আদিশেট্টির সঙ্গে ডেচাম্মার সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ের পরেও বজায় ছিল।
মহিলার অভিযোগ, এই বিষয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করলে তাকে ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি ডেচাম্মাও তাকে ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ অগস্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে পূর্বতন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে ডেচাম্মাও অভিযুক্ত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টে ডেচাম্মার আইনজীবী জানান, এফআইআর বা অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অভিযোগ যদি সত্যিও ধরে নেওয়া হয়, তবুও কোনোভাবেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় ডেচাম্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যায় না। তিনি আরও জানান যে ডেচাম্মা অভিযোগকারিণীর বাড়ি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে থাকেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা অনুযায়ী ডেচাম্মা কোনোভাবেই ওই মহিলার স্বামীর ‘আত্মীয়’ হিসেবে গণ্য হতে পারেন না।
এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে স্বামীর ‘আত্মীয়’ বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে যারা কোনো না কোনোভাবে স্বামীর সঙ্গে রক্তের সম্পর্কে যুক্ত অথবা বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ। স্বামীর শুধুমাত্র ‘বান্ধবী’ অথবা যার সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক আছে, এমন কেউ তার ‘আত্মীয়’ হিসেবে বিবেচিত হবেন না এবং সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৪৯৮এ ধারায় অভিযোগ আনাও অর্থহীন।
এই রায়ের ফলে ৪৯৮এ ধারার অপব্যবহার রোধ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।