বিশেষ: গরীবের সেবায় বিলিয়ে দেন উপার্জন! টানা ১১ বছর ধরে সেবা করছেন মাঙ্গিলাল

জীবনের শেষ লগ্নে, যখন বেশিরভাগ মানুষ ঘরে বসে দিন কাটান, তখন ৭১ বছর বয়সী মাঙ্গিলাল প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে পড়েন পাঁপড়, ভুজিয়া, ধূপকাঠির ব্যাগ হাতে নিয়ে। এই বৃদ্ধ ব্যক্তি গত ১১ বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে সেবা করে চলেছেন, দিনের বেলায় জিনিসপত্র বিক্রি করে রোজগার করেন এবং রাতে সেই টাকা দিয়ে গরিবদের সাহায্য করেন।
কোচবিহারের বাসিন্দা মাঙ্গিলাল
কোচবিহার শহরের এনএন পার্ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মাঙ্গিলাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই মহৎ কাজ করে আসছেন, ফলে কোচবিহারবাসী তার কাজের সাথে বেশ ভালো করেই পরিচিত। প্রতিদিন সকাল ৯টায় চা-বিস্কুট খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সারাদিন ফেরি করে দুপুর সাড়ে তিনটায় বাড়ি ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রাত সাড়ে দশটার মধ্যে আবার বেরিয়ে পড়েন।
মাঙ্গিলালের অনুপ্রেরণা
মাঙ্গিলালের মায়ের মৃত্যুই তাকে এই পথে এগিয়ে দিয়েছে। দশ বছর আগে যখন তার মা মারা যান, তখন আর্থিক অবস্থার খারাপির কারণে তিনি তার মায়ের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনতে পারেননি। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু তেমন সাড়া পাননি। এই ঘটনাই তাকে গরিবদের সেবা করার প্রণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
মাঙ্গিলালের কাজের ধরণ
মাঙ্গিলাল দিনের বেলায় রোজগার করা টাকা রাতে গরিবদের জন্য ব্যয় করেন। হাসপাতালে গিয়ে অর্থাভাবে ওষুধ কিনতে না পারা রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে তাদের জন্য ওষুধ কিনে দেন। রাস্তায় খাবার না পাওয়া মানুষদের হোটেলে নিরামিষ ভাত খাওয়ান। এছাড়াও, গরিব পরিবারের ৩৮টি মেয়ের বিয়ের জন্য সমস্ত পোশাক কিনে দিয়েছেন তিনি।
মাঙ্গিলালের সংসার
মাঙ্গিলালের স্ত্রী, এক ছেলে, পুত্রবধূ, দুই নাতি-নাতনি নিয়ে সংসার। ছেলে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে এবং সংসারের সমস্ত খরচ চালায়। এমনকি মাঙ্গিলালকেও প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে হাতখরচ দেয়।
মাঙ্গিলালের জীবনের শিক্ষা
মাঙ্গিলালের নিঃস্বার্থ সেবার মনোভাব আমাদের জীবনে অনুপ্রেরণা যোগায়। জীবনের শেষ লগ্নেও তিনি অন্যদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে চলেছেন। তার জীবন আমাদের শেখানো দরকার যে, সুখ কেবল নিজের জন্য ভোগ করার মধ্যে নয়, অন্যদের সাহায্য করার মধ্যেও রয়েছে।