চুরি করে জেলে! অপর দিকে ‘দাদা’ রেডি বেলে- জানুন পুরো কারসাজি সম্পর্কে?

শিলিগুড়িতে এক নতুন ধরনের অপরাধ চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে, যেখানে চুরি করা থেকে শুরু করে ধরা পড়া চোরদের জামিন করানো পর্যন্ত, সবকিছুই একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই চক্রে জড়িতদের মধ্যে রয়েছে চোর, চোরাই মাল কেনাবেচার কারবারি এবং এমনকি রাজনৈতিক মদতদাতারাও, যা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শহরে এখন চোরেদের জামিনের জন্যেও বিশেষ দল তৈরি হয়েছে। এই চক্রের কার্যক্রম অনেকটা এরকম: প্রথমে একদল সদস্য পাড়ায় ঘুরে ঘুরে রেকি করে, অর্থাৎ কোন বাড়িতে লোক নেই বা কোন বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে সেই তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর অন্য একটি দল সেই তথ্য অনুযায়ী চুরি বা ছিনতাই করে। চুরি করা মাল সরাসরি চলে যায় চোরাই সামগ্রী কেনাবেচার কারবারিদের কাছে। চোরেরা মোটা টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেয়, আর কারবারিরা চোরাই সোনা হলে তা গলিয়ে ফেলে এবং অন্যান্য সামগ্রী এক-দুই দিনের মধ্যেই অন্য জেলায় পাচার করে দেয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ধরা পড়া চোরদের জামিন করানোর জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে। তারা দ্রুত থানায় পৌঁছে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা প্রদান করে। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ‘দাদারা’ মদত যোগাচ্ছেন। সম্প্রতি শিলিগুড়ির বিভিন্ন থানায় এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চোরদের ছাড়াতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের থানায় আসতে দেখা গেছে। এমনকি এমনও নজির আছে, যেখানে কিছুদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিও চোরদের পক্ষ নিয়ে থানায় ওকালতি করতে এসেছেন। মাটিগাড়া থানায় মোবাইল চুরির অভিযোগে এক নাবালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে গেলে একজন আইনজীবী তৎক্ষণাৎ থানায় এসে হাজির হন, যা এই চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের প্রমাণ দেয়।
শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, পুলিশ এই চক্রের পেছনের ব্যক্তিদের এবং তাদের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন থানা এলাকায় চোরেদের আলাদা আলাদা দল আছে, যারা নিজেদের এলাকায় ‘অপারেশন’ চালায় এবং একে অপরের এলাকায় প্রবেশ করে না। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত: কেউ রেকি করে, কেউ চুরি করে, আবার কেউ চোরাই মাল কেনে এবং সবশেষে কেউ জামিনের ব্যবস্থা করে।
এই ঘটনার ফলে শিলিগুড়িতে অপরাধ জগতের এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ এই চক্রের মূল উৎপাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।