আপিলে হেরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও নিষিদ্ধের পথে টিকটক, বিপাকে ব্যবহারকারীরা

চীন ভিত্তিক জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা বিক্রির নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। যার ফলে দেশটিতে অ্যাপটি নিষিদ্ধ করার পথ আরো সুগম হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর টিকটক জানিয়েছে, তারা এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে লড়বে।
আইন অনুযায়ী, টিকটককে ২০২৫ সালের শুরুতে নিষিদ্ধ বা বিক্রি করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি টিকটক আশা করেছিল, একটি ফেডারেল আপিল আদালত তার যুক্তির সঙ্গে একমত হবেন, কারণ এই আইন অসাংবিধানিক।
টিকটক বলছে, এই আইন ১৭ কোটি মার্কিন ব্যবহারকারীর মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ‘অভূতপূর্ব আঘাত’ হানছে কিন্তু আদালত আইনটিকে বহাল রেখেছেন।
আদালত বলেছেন, ‘এই আইন দীর্ঘমেয়াদী, দ্বিদলীয় পদক্ষেপ এবং পরপর কয়েকজন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পরিপূর্ণ ফলাফল।
টিকটকের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমেরিকানদের বাকস্বাধীনতার অধিকার রক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে এবং আমরা আশা করি, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ইস্যুতে ঠিক তাই করবে।’
তারা আরো জানায়, আইনটি ‘ভুল, ত্রুটিপূর্ণ এবং অনুমানমূলক তথ্যের’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
টিকটক বন্ধ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হবে অ্যাপ স্টোর থেকে টিকটক সরিয়ে ফেলা, যেমনটি অ্যাপল ও গুগলের আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবহারকারীরা টিকটক ডাউনলোড করতে পারবেন না এবং যারা এরইমধ্যে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন, তারা নতুন আপডেট বা সিকিউরিটি ফিচার পাবে না।
এই আইনে বলা হয়েছে, যে কোনো শত্রু দেশের অ্যাপকে যুক্তরাষ্ট্রে আপডেট করা যাবে না। টিকটক এই আইনকে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে দাবি করে বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত।
সূত্র: বিবিসি