বিশেষ: কাক স্বেচ্ছায় পিঁপড়ের কামড় খায় কেন? জেনেনিন সেই কারণ?

কাক একজাতীয় পাখি। উষ্ণমন্ডলীয় সব মহাদেশ (দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত) এবং বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তার রয়েছে। কাককে পক্ষীজগতের সর্বাপেক্ষা চালাক পাখি বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, প্রাণীজগতের অন্যতম চালাক প্রাণী হিসেবে এদের গণ্য করা হয়। তবে কখনো কখনো কাকেরা নিজ ইচ্ছায় পিঁপড়ার বাসায় যায় ও পিঁপড়ার কামড় খায়।
কাকেরা এমন কেন করে জানেন? কাকেরা সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে একটি, যার বুদ্ধির তুলনা ৭ বছরের বাচ্চার সঙ্গে করা হয়ে থাকে। এছাড়া কাকেরা বিভিন্ন রকম পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে। আবার কখনো কখনো তাদের অন্য প্রাণীদের সাহায্য করতেও দেখা যায়। কিন্তু এই বুদ্ধিমান কাকই পিঁপড়ার বাসায় গিয়ে বোকার মতোন পিঁপড়ার কামড় কেন খায় আর সেটাও নিজের ইচ্ছাতেই!
আর কথা নয়; এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কী সেই কারণ-
কাকেরা প্রথমে পিঁপড়ের বাসায় গিয়ে তাদের বিরক্ত করতে থাকে যেন পিঁপড়েরা বাধ্য হয়ে তাকে কামড়াতে থাকে। তারপর পিপড়ারা কাকের গায়ে ফর্মিক অ্যাসিড স্প্রের মতো করে ছাড়ে আর এটাই হলো কাকদের কাছে ঔষুধ। কারণ, কাকদের শরীরে নানা রকম প্যারাসাইট হয় আর এই প্যারাসাইট থেকে মুক্তির জন্য পিঁপড়াদের ছাড়া এই ফরমিক এসিডের প্রয়োজন হয়। তাদের শরীরে এই ফরমিক এসিড কীটনাশকের মতো কাজ করে আর এজন্য কাক বাধ্য হয়ে পিঁপড়াদের বাসাতে যায় আর এক প্রকার ফ্রিতে চিকিৎসা নিয়ে সমস্ত রোগ সারিয়ে আসে। অর্থাৎ প্রথমে আমাদের যেটাকে বোকামি মনে হলেও বাস্তবে এটাই কাকদের বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ।
পিঁপড়েদের উৎপাদিত অ্যাসিডকে ফর্মিক অ্যাসিড বলে। নাম আসে লাতিন শব্দ ফর পিঁড়ির, যা’ ফরনিকা’। কেমিক্যালি এটি একটি সাধারণ কার্বলিক এসিড। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাধারণ প্রজাতির ব্ল্যাক পিন্ট হলো ব্ল্যাক কার্পেন্টার পিঁপড়া, যা তার চোয়াল দিয়ে অল্প পরিমাণে ফর্মিক অ্যাসিড সরবরাহ করে, যখন সে কামড়ায়।