OMG! বাইকের ধাক্কায় দুরন্ত ল্যাম্বরগিনির গায়ে দাগ, মানহানির মামলা দায়ের মালিকের

একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ির সঙ্গে সংঘটিত একটি ছোট্ট দুর্ঘটনার ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে যে ভাইরাল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত রবিবারে। একটি মোটরবাইক ল্যাম্বরগিনিকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে এবং এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ভিডিওতে গাড়ির মালিককে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে।

গাড়ির মালিক পরভিন আগরওয়াল দাবি করেছেন যে, এই ভিডিওর কারণে তাঁর এবং তাঁর গাড়ির মানহানি হয়েছে। এই ভিডিওটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এই ঘটনার বিরুদ্ধে বারুইপুর জেলা পুলিশে ই-মেইল করে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আদালতেও যাবেন বলে জানিয়েছেন।

তাঁর কথায়, ‘একটা নামী ব্র্যান্ডের গাড়িতে সামান্য দুর্ঘটনা ঘটলেও যেখানে কারও কোনও ক্ষতি হয়নি, আমরাও পুলিশে অভিযোগ জানাইনি, সেখানে কেউ একজন একটা রিলস বানিয়ে ভাইরাল করে দেওয়ায় আমার সম্মান তো ক্ষুণ্ণ হলোই। সঙ্গে এই গাড়িটার রিসেল ভ্যালুও তো অনেক কমে গেল। তা হলে গাড়ির মানহানি কেন হবে না?’

তাঁর আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতার বক্তব্য, ‘যে ভাবে আমার মক্কেলের হাই–এন্ড গাড়িটিকে নিয়ে রিলস ছড়ানো হয়েছে, তা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত মানহানিকর বলে আমরা মনে করছি। এর প্রভাব তাঁর ব্যবসার ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। তাই পুলিশকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করার আর্জি জানানো হয়েছে অভিযোগপত্রে।’

তাঁর সংযোজন, ‘এখন ছুটির জন্য কোর্ট বন্ধ রয়েছে। কোর্ট খুললে আমরা আদালতেও মানহানির মামলা করার কথা ভাবছি। এই ধরনের ভিডিয়োয় একজন ব্যক্তির সম্মান তো ধূলিসাৎ হয়েইছে, পাশাপাশি তাঁর গাড়ির সম্মানহানির বিষয়টিও কী ভাবে আদালতে তুলে ধরা যায়— সেটাও আমরা আইনি ভাবে খতিয়ে দেখছি।’

পুলিশ ও আইনজীবীদের মতে, একটি ল্যাম্বরগিনির মানহানির মামলা করা অস্বাভাবিক এবং বেনজির মনে হয়।

দুর্ঘটনাটি ছিল খুবই ছোট এবং কোনও গুরুতর ক্ষতি হয়নি।ভিডিওটি সম্ভবত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সময় বিকৃত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে সামাজিক মাধ্যমে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি আমাদের সকলকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, সামাজিক মাধ্যমে আমাদের কী পোস্ট করছি সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। অন্যের সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।