“মেয়েদের বাড়ির বাইরে থাকতে হয় ৫ দিন!”- জাস্টিসের ছবিতে ধরা পড়লো ‘পিরিয়ড পভার্টি’-র চিত্র

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল। শনিবার ‘সামাজিক ন্যায় ও নারী অধিকার’ নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ‘ইন্টারন্যাশনাল সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস অন রেকর্ড’ (SCAORA)-এর প্রথম আইনি সম্মেলনে। সেখানে তিনি শুরুতেই একটা ছবি দেখান। গত বছরে তোলা। এই দেশেরই কোনও এক প্রত্যন্ত গ্রামের। বাড়ির বাইরে রাস্তায় বসে রয়েছেন এক মধ্যবয়সি মহিলা। তাঁর ঠিক পিছনের জায়গাটায় মোটা প্লাস্টিক জাতীয় কিছু একটা দিয়ে ছাউনি করা। এক পাশে গাছ থেকে কাটা কাঠ ডাঁই করে রাখা। রোদ-জল-বৃষ্টি যাই হোক না কেন, বাড়ির ভিতরে তাঁর ঢোকা ‘নিষেধ!’ কিন্তু কেন? বিচারপতি নিজেই জানান ছবিটা তাঁরই তোলা। পরে তিনি জেনেছিলেন, ওই মহিলার পিরিয়ডস হয়েছিল ওই সময়ে। তাই পাঁচ দিন তাঁকে বাড়ির বাইরে থাকার ‘বিধান’ দিয়েছেন সমাজপতিরা। কারণ উনি কিছু ছুঁয়ে দিলে সব অশুচি ও অপবিত্র হয়ে যাবে। তিনিও তা পালন করছেন, না হলে সমাজচ্যুত হবেন! একঘরে করে দেওয়া হবে।এই কাহিনি তুলে ধরার পরই বিচারপতি করোল বলেন, ‘এই ভারতই আমাদের দেশ, যেখানে আমরা থাকি! আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব এই মানুষগুলোর কাছে পৌঁছনোর।’

বিচারপতি করোলের মন্তব্যে ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে মহিলাদের ঋতুস্রাব সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কার এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থার এক জ্বলন্ত ছবি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমাদের দেশের সকল মানুষের কাছে ন্যায় বিচার পৌঁছাতে হলে সামাজিক কুসংস্কার দূর করা জরুরি।

ঋতুস্রাবকে অশুচি বলে মনে করা, ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের আলাদা রাখা, এই ধরনের কুসংস্কার এখনও বিদ্যমান। গ্রামীণ অঞ্চলে স্যানিটারি ন্যাপকিনের অভাব, স্বাস্থ্যবিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা। মেয়েরা ঋতুস্রাব সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা পান না। মহিলাদের প্রতি সামাজিক বৈষম্যের কারণে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সম্ভাব্য সমাধান:

ঋতুস্রাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। স্কুল, কলেজ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া উচিত। গ্রামীণ অঞ্চলে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধান সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া উচিত। সামাজিক কুসংস্কার দূর করার জন্য সকলের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকারকে এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

অন্যান্য বিষয়:

পিরিয়ড লিভ চালু করার বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরুষদেরও ঋতুস্রাব সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ভারতের অনেক অঞ্চলে একে এখনও একটি লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে।