বিশেষ: কোহিনুর তুমি কার? দেখেনিন ইতিহাসের তথ্য সম্বলিত সর্বশেষ বিশেষ বিশ্লেষণ

টানা সাত দশক রাজ্য পরিচালনা করে ৮ সেপ্টেম্বর ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার বড় ছেলে চার্লস এখন ব্রিটেনের রাজা ও তার স্ত্রী ক্যামিলা পার্কার কুইন কনসর্ট। রানীর মাথায় কোহিনুরসহ মূল্যবান পাথর বসানো চোখ ধাঁধানো মুকুট অনেকেই দেখেছেন। তার মৃত্যুর পর বিশ্বের সবচেয়ে দামি ওই হীরা রাজা চার্লস নাকি কুইন কনসর্ট ক্যামিলার মাথায় শোভা পাবে, এ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। ব্রিটিশ রাজবংশের রীতি অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো রাজমুকুটটি পরবেন রাজা তৃতীয় চার্লস। অনুষ্ঠান শেষে তিনি এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অভিজাত গির্জা ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রেখে যাবেন। গির্জাটি ১০৬৬ সাল থেকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের উপাসনালয়। এরপর মা রানী এলিজাবেথের মতো যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর দিন থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোহিনুরের ওই মুকুট পরবেন চার্লস। অবশ্য মুকুটের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, রানীর মৃত্যুর পর এটি পরার অধিকার পরবর্তী রানী পান। সেই হিসেবে কুইন কনসর্ট ক্যামিলার মাথায় রাজমুকুটটি দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ব্রিটিশ রাজমুকুটে প্রায় তিন হাজার পাথর রয়েছে। এসব পাথরের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৮৬৮টি হীরা, ২৭৩টি মুক্তা, ১৭টি নীলকান্তমণি, ১১টি পান্না ও পাঁচটি চুনিপাথর। এসব পাথরের মধ্যে মুকুটের সামনের দিকে বসানো হয়েছে ১০৫.৬ ক্যারেটের কোহিনুর। ফারসি শব্দ কোহিনুরের অর্থ আলোর পাহাড়। ইতিহাসবিদ ও দ্য ক্রাউন জুয়েলস বইয়ের লেখক অ্যানা কে বলেন, ‘তিন হাজার পাথর থেকে ঠিকরে বের হওয়া জ্যোতির কারণে অনেক সময় মুকুটের দিকে তাকানো কঠিন হয়ে পড়ে। মধ্যযুগ থেকে রাজমুকুটকে ধনসম্পত্তি ও সামাজিক মর্যাদার অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে। সে জায়গা থেকে ব্রিটিশ রাজমুকুট ঐশ্বর্যের প্রতীক, আধিপত্যের প্রতীক।’
১৯৩৭ সালে সদ্য প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জের অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য ওই রাজমুকুট তৈরি করা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটেনের প্রয়াত রানী ভিক্টোরিয়া যে মুকুটটি পরতেন, সেটি বেশ ভারী ছিল। এ কারণে রাজা ষষ্ঠ জর্জের অভিষেকের আগে মুকুটের ওজন কিছুটা কমানো হয়। তবে ওজন যে খুব একটা কমেছে, তা নয়। ১ কেজি ৬ গ্রাম ওজনের মুকুট নিয়ে ২০১৮ সালে একবার মজাও করেছিলেন রানী এলিজাবেথ। তিনি বলেছিলেন, ‘লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় মাথা নিচু করার উপায় নেই। মুকুটের ভরের কারণে বক্তব্য উঁচুতে রাখতে হয় নয়তো আমার ঘাড়ই ভেঙে যাবে।’ গত কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে এই মুকুটের কোহিনুর নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। রানীর মৃত্যুর পর সেই বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে ভারতীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজা-রানীর মাথায় শোভা পাওয়া মুকুটের কোহিনুর নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে এত গুঞ্জনের কারণ কী? এ নিয়ে তারা এত ক্ষিপ্তই বা কেন? কী এই কোহিনুরের ইতিহাস? ব্রিটিশ রাজমুকুটের কোহিনুর ভারতীয়দের সম্পত্তি, তাদের এই দাবির সত্যতা কতটুকু?
হীরার উৎস
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারত ছিল বিশ্বে হীরার একমাত্র উৎস। অন্য কোনো দেশে সে সময় হীরা পাওয়া যেত না। ১৭২৫ সালে ভারতের পর লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে হীরার খনি পাওয়া যায়। ভারতীয় হীরার বেশির ভাগই নদীর বালি থেকে সংগ্রহ করা হতো। ইতিহাসবিদ অনিতা আনন্দ ও উইলিয়াম ডালরিম্পল জানান, প্রাচীন ভারতে পোশাকের চেয়ে গহনাগাটিকেই বেশি মূল্য দেওয়া হতো। রাজার পারিষদরা কোন ধরনের নকশার রত্ন পরেন, তার ওপর নির্ভর করত রাজসভায় তাদের পদমর্যাদা। রত্নবিদ্যা সম্পর্কিত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো বইয়ের লেখক একজন ভারতীয়। ১৫২৬ সালে মধ্য এশিয়া থেকে খাইবার পাস হয়ে (আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গিরিপথ) ভারত দখল করতে আসেন তুর্কি-মোঙ্গল যোদ্ধা জহির-উদ-দিন বাবর। ভারত জয় করে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ৩৩০ বছর ভারত শাসন করে মোগলরা। ওই সময়ে সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি হীরাসহ ভারতের মূল্যবান রত্নও লুট করে তারা।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের মুকুটের কোহিনুর ভারতের কোন প্রদেশের এবং কখন এটি মোগল সম্রাটদের দখলে আসে, তা সঠিক জানা যায়নি। তবে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য রয়েছে ইতিহাসবিদদের কাছে। তাদের মতে, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে কোহিনুরটি পাওয়া যায়। ১৬২৮ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহান বিশাল রত্নখচিত সিংহাসন তৈরির নির্দেশ দেন। হিব্রু বাইবেল ও ওল্ড টেস্টামেন্টে প্রাচীন ইসরায়েলের সম্রাট সলোমনের সিংহাসনের যে বর্ণনা দেওয়া রয়েছে, তার আদলে সাত বছর ধরে শাহজাহানের সিংহাসনটি বানানো হয়। ওই সিংহাসন তৈরিতে তাজমহলের চেয়ে চার গুণ বেশি খরচ হয়। সিংহাসন নিয়ে শাহজাহানের ইতিহাসবেত্তা আহমেদ শাহ লাহোর বলেছিলেন, সিংহাসনের অনেক পাথরের মধ্যে সবচেয়ে দামি দুটি পাথর ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। একটি তাইমুর চুনি আর অন্যটি কোহিনুর হীরা। এই হীরা সিংহাসনে সবার ওপরে রত্নখচিত ময়ূরের মাথায় বসানো ছিল।
শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তৈরির পরবর্তী ১০০ বছরে ভারতের বাইরেও আধিপত্য বিস্তার করে মোগলরা। সে সময় ভারত ছিল এশিয়ার সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ। এর ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধি পারস্যের শাসক নাদের শাহকে আকৃষ্ট করে। সম্পদ লুণ্ঠনের আশায় ১৭৩৯ সালে দিল্লি আক্রমণ করে বসেন তিনি। সে সময় দুই পক্ষের লড়াইয়ে প্রচুর প্রাণহানি হয়। দিল্লি ত্যাগের সময় নাদেরের লুটপাটের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে লুণ্ঠিত সম্পদ টানতে তার ৭০০ হাতি, চার হাজার উট ও ১২ হাজার ঘোড়া লেগেছিল। শাহজাহানের সেই ময়ূর সিংহাসনও লুট করতে ভোলেননি তিনি। সিংহাসনের কোহিনুর হীরা ও তাইমুর চুনি নাদেরের মনে এতই ধরেছিল যে, তিনি পাথর দুটি খুলে নিয়ে হাতের বাহুতে পরেন।
কপালপোড়া কোহিনুর
পারস্যের শাসক নাদের শাহের খপ্পরে পড়ে ভারতের কোহিনুর ৭০ বছর ভিনদেশে ছিল। সে সময় ক্ষমতার ব্যাপক পালাবদল হয় মধ্য এশিয়ায়। এক শাসকের হাত থেকে অন্য শাসকের হাতে যাওয়াই কোহিনুরের নিয়তি হয়ে পড়ে। মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়ে ভারতের রাজনীতিতেও। দেশটির ক্ষমতা কাঠামোয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়। শাসন ও শোষণের লোভ সামলাতে না পেরে ভারতের দিকে ধেয়ে আসে ব্রিটিশরা।
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই ভারতের উপকূলীয় শহর থেকে কেন্দ্রের দিকে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ইতিহাসবিদ অনিতা ও উইলিয়াম জানান, ইউরোপে নেপোলিয়ন যে পরিমাণ অঞ্চল দখল করেন, তার চেয়ে বেশি অঞ্চল ওই শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চোখ তাদের শুরু থেকেই ছিল। অমূল্য রতœ কোহিনুরের ইতিহাস জানার পর সেদিকেও তাদের চোখ যায়।
কয়েক দশক দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৮১৩ সালে শিখ সাম্রাজ্যের প্রথম রাজা রনজিৎ সিংয়ের কল্যাণে কোহিনুর ভারতে ফেরত আসে। অনিতা ও উইলিয়াম জানান, বিষয়টি এমন নয় যে, রাজা রনজিৎ কোহিনুর পছন্দ করতেন এবং এর বিশাল আর্থিক মূল্যের কথা ভেবে তিনি সেটি দেশে এনেছিলেন। বরং তার কাছে কোহিনুরের মূল্য তার চেয়ে বেশি কিছু ছিল। আফগান রাজা আহমেদ শাহ দুররানি থেকে শুরু করে পরবর্তী শাসকরা ভারতের যত এলাকা দখল করেছিলেন, তার সবই আফগানদের কবল থেকে একে একে মুক্ত করেন রনজিৎ। তিনি কোহিনুরকে যে দৃষ্টিতে দেখেছিলেন, তা ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এর আগে কোহিনুরটিকে কেবল সৌন্দর্য ও মূল্য দিয়ে বিচার করা হতো। কিন্তু শিখ রাজা রনজিৎ দেখালেন, এটি যতটা না সৌন্দর্য, তার চেয়ে বেশি শক্তি বা ক্ষমতার প্রতীক। যার কাছে এটি থাকবে, সেই সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে ক্ষমতার এই প্রতীককে ছিনিয়ে নেওয়ার লোভ সংবরণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। তারা মনে করেছিল, কোহিনুরসহ পুরো ভারত যদি দখল করা যায়, তবে তা তাদের শক্তি ও ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটাবে। তাই মৃত্যুর আগে রাজা রনজিৎ যখন কোহিনুরসহ অন্যান্য রতœ হিন্দু পুরোহিতদের দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন ক্ষোভে ফেটে পড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। তারা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে নির্দেশ দেয় কোহিনুর পেতে যা যা করা দরকার, তাই যেন করা হয়। নির্দেশ মানতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে অবশ্য শিখ সাম্রাজ্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৮৩৯ সালে রনজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর পর মাত্র চার বছরে চারজন শিখ রাজা সিংহাসনে বসেন। একপর্যায়ে শিখ সাম্রাজ্য চালানোর ভার ১০ বছর বয়সী দুলিপ সিং ও তার মা রানী জিন্দ কৌরের ওপর পড়ে। ১৮৪৯ সালে রানী জিন্দকে বন্দি করে ব্রিটিশ বাহিনী। রানীকে মুক্তির বিনিময়ে রাজা দুলিপকে জোর করে একটি নথিতে স্বাক্ষর করায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। নথিতে বলা হয়, কোহিনুরটি ব্রিটেনের রানীর কাছে হস্তান্তর করতে রাজি আছেন রাজা দুলিপ সিং।
ওই ঘটনার পর তৎকালীন ব্রিটিশ রানী ভিক্টোরিয়ার বিশেষ সম্পদে পরিণত হয় কোহিনুরটি। ১৮৫১ সালে লন্ডনের হাইড পার্কে আন্তর্জাতিক এক প্রদর্শনীতে অংশ নেয় পাথরটি। কোহিনুর দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয় লন্ডনের সাধারণ জনগণ। ওই বছরের জুনে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশির ভাগ মানুষের কাছে কোহিনুরটিকে এক টুকরো কাচ ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখে রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স অ্যালবার্ট পাথরটিকে পুনরায় কেটে পালিশ করার নির্দেশ দেন। এর ফলে কোহিনুরের আকৃতি অর্ধেকে নেমে আসে এবং এটির নিচ থেকে আলো আরও বেশি প্রতিসৃত হয়। শুরুর দিকে পাথরটি ব্রোচ হিসেবে পরতেন রানী ভিক্টোরিয়া। এরপর ধীরে ধীরে রাজমুকুটের হাজারো রতেœর পাশে এটির ঠাঁই হয়। প্রথমে রানী ভিক্টোরিয়ার বড় ছেলে রাজা সপ্তম অ্যাডওয়ার্ডের স্ত্রী রানী আলেক্সান্ড্রা এবং পরে রানী ভিক্টোরিয়ার নাতি রাজা পঞ্চম জর্জের স্ত্রী রানী ম্যারির মুকুটে কোহিনুরটি দেখা যায়।
মালিকানা বিতর্ক
রাজমুকুটের কোহিনুরের মালিকানা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। ইতিহাসবিদ উইলিয়াম বলেন, ‘নাৎসিরা ইহুদিদের যেসব শিল্পকর্ম লুট করেছিল, তার কী হওয়া উচিত, এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সবাই বলেন, অবশ্যই সেসব তাদের মালিকের কাছে ফেরত দিতে হবে। তাহলে রাজার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে কয়েক শো বছর আগে ভারত থেকে যে হীরা লুট করা হয়, তার বেলায় আমাদের ওই যুক্তি খাটে না কেন? ঔপনিবেশিক আমলে জোর করে কেড়ে নেওয়া জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে নৈতিক পার্থক্যটা কোথায়?’ কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডেনিয়েল কিনসে বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকার ও পণ্ডিতরা ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশকে তাদের উপনিবেশে পরিণত করার পেছনে যুক্তি দেয় এই বলে যে, তাদের সাম্রাজ্যবাদের উদ্দেশ্য লুটপাট ছিল না। উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীকে সভ্য ও শিক্ষিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। আমি মনে করি, এর চেয়ে ডাহা মিথ্যা কথা আর হয় না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃত ইতিহাস ঘাঁটলে প্রতি পাতায় আমরা দেখব ভয়াবহ অত্যাচার, লুণ্ঠন ও অর্থনৈতিক শোষণের রক্তাক্ত চিত্র।’
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ভারতীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি জানান, কোহিনুরটি যেন ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এই দাবি যে রানীর মৃত্যুর পর প্রথম করা হচ্ছে, তা নয়। আগেও এই দাবি উঠেছে কিন্তু বরাবরই তা খারিজ করে আসছে ব্রিটিশরা। তাদের দাবি, দামি পাথরটি লুট করা হয়নি; এটি স্বেচ্ছায় শিখ সাম্রাজ্যের শেষ রাজা দুলিপ সিং রানী ভিক্টোরিয়াকে উপহার দেন। অবশ্য ভারত একা নয়, এই কোহিনুরের দাবিদার পাকিস্তান, ইরান এমনটি আফগানিস্তানও। কিনসে বলেন, ‘রাজা দুলিপ সিংয়ের শিখ সাম্রাজ্যের কেন্দ্র লাহোরে ছিল, যা এখন পাকিস্তানে অবস্থিত। তার পূর্বসূরি রাজা রনজিৎ সিং কোহিনুরটি ভারতে ফেরত আনার আগে সেটি প্রথমে পারস্য অর্থাৎ ইরান ও পরে আফগানিস্তানের শাসকদের হাতে ছিল।’
অনিতা ও উইলিয়াম বলেন, ‘ইতিহাসের বইয়ে ব্রিটিশ শিশুদের শেখানো হয়, ভারত কোহিনুরটি ব্রিটেনকে উপহার দিয়েছিল। আমরা মনে করি, প্রকৃত সত্য তাদের বলা উচিত। লুট করা সম্পদ নিয়ে গর্ববোধ করা আহাম্মকি। ব্রিটিশ জনগণ এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করে না কারণ তারা প্রকৃত ঘটনা জানে না, তাদের জানতে দেওয়া হয় না। ব্রিটিশ সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, তারা অমূল্য সম্পদটি যে দেশ থেকে এনেছে, সেই দেশে ফিরিয়ে দিক- এটাই আমরা চাই।’