বিশেষ: স্বামীকে ‘তালাক’ দিয়ে পারফিউম ব্যবসায় দুবাইয়ের রাজকুমারী, নাম দিলেন ‘ডিভোর্স’

শাইখা মাহরা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম; তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসকের মেয়ে। এক কথায়, তিনি দুবাইয়ের রাজকুমারী। তিনি সবসময়ই নানা কারণে আলোচনায় থাকেন। হুট করেই তিনি তার ব্যবসায়ী স্বামী শেখ মানা বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ বিন মানা আল মাকতুমকে তালাকের ঘোষণা দিয়েছেন কিছুদিন আগে। এরপর যা করলেন, তা নিয়ে আরো বেশি আলোচনা হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
গত বছরের মে মাসে শেখ মানার সঙ্গে রাজকুমারীর বিয়ে হয়। তাদের সন্তানের বয়স এখনো দুই মাস হয়নি। চিরকালই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না দুবাইয়ের রাজকুমারী। চলতি বছরের জুলাইয়ে এক পোস্টে শেইখা লেখেন, ‘প্রিয় স্বামী, আপনি অন্য সঙ্গীদের নিয়ে আছেন। তাই আমি আপনাকে তালাক দিলাম। তালাক, তালাক, তালাক। ভালো থাকবেন। আপনার সাবেক স্ত্রী।’
বিবাহবিচ্ছেদের কারণ যে পরকীয়া, তা বোঝাই গিয়েছিল রাজকুমারীর পোস্ট দেখে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শাসক, ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা দুবাইয়ের রাজা মহম্মদ বিন রশিদ আল মহতুমের মেয়ে মাহরা চিরকালই নারীবাদী পন্থার জন্য পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনেও তাই আত্মসম্মানকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি, বেছে নিয়েছিলেন বিবাহবিচ্ছেদের পথ।
বিবাহবিচ্ছেদের পোস্টের মতোই এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে নতুন পারফিউমের কথা ঘোষণা করলেন রাজকুমারী। নাম রাখলেন ‘ডিভোর্স’ (DIVORCE)। আগের মতোই কোনোরকম লুকোচুরি না করেই তিনি একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে শুধু লেখেন, ‘DIVORCE, By Mahra M1’। ছবিতে দেখা গেছে, একটি ঘন কালো বোতলের ওপর সাদা হরফে লেখা DIVORCE।
রাজকুমারীর ছবি পোস্ট করার কায়দা রেখে তার বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন অনেকেই। পারফিউমের পাশে পড়ে থাকা ভাঙা কাজ রাজকুমারীর জীবনে বয়ে চলা দুঃসময়ের প্রতীক বলেই দাবি করেছেন অনেকে। তবে তিক্ত অতীতকে পিছনে ফেলে রাজকুমারী যে নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইছেন, সেই প্রচেষ্টারও সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।
বিবাহবিচ্ছেদের পর অন্যান্য নারীদের মতো কান্নাকাটি করে নয় বরং যথার্থ রাজকুমারীর মতই নিজের আভিজাত্য বজায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে চলছেন তিনি। রাজকুমারী তার ব্যবসা নিয়ে যাতে আরও এগিয়ে যেতে পারেন, সেই বিষয়েও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
শেখা মাহরা গত বছর লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হয়েছেন, এবং তিনি তার স্নাতক দিবসের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেও আলোচনায় আসেন। তাকে নানা প্রদর্শনী এবং লঞ্চ এর অনুষ্ঠান সহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় ইভেন্ট এ যোগদান করতে দেখা যায়। শেইখা মাহরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করেন।