বিশেষ: বাবা রাজমিস্ত্রি, মা বিঁড়ি বাঁধেন, বাড়িতে অভাবের সঙ্গে লড়ে আজ বিচারক হয়েছেন রাহুল

জঙ্গিপুরের মঙ্গলজোন গ্রামের রাহুল শেখ একজন রাজমিস্ত্রির ছেলে। তিনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই অসামান্য সাফল্যে গ্রামবাসীরা আনন্দে মুখর।

রাহুলের বাবা একজন রাজমিস্ত্রি এবং মা গৃহবধূ। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তবুও রাহুল লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষা অর্জন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

রাহুল স্থানীয় বারালা রাম দাস সেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ শাখায় আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৮ সালে তিনি বিএএলএলবি পাশ করেন এবং তারপর এলএলএমের জন্য পঞ্জাব সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকেই তিনি আইনে পিএইচডি করেন।

রাহুলের এই অসামান্য সাফল্যে গ্রামবাসীরা গর্বিত। তারা মনে করেন রাহুল অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

রাহুলের সাফল্যের গল্প:
রাহুল বরাবরই বিচার বিভাগের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।ছোটবেলায় টাকার অভাবে তার লেখাপড়া থমকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।সেই সময় তার মা বিড়ি বেঁধে তার লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছিলেন।

বড় দাদা রেল পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর পরিবারে কিছুটা স্বাচ্ছল্য আসে।রাহুলের বড়দা তার পড়াশোনার খরচ চালান।চাকরি পাওয়ার পর রাহুল সংসারের হাল ধরেন।রাহুলের দাদা তার সাফল্যে গর্বিত।গ্রামবাসীরা রাহুলকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

রাহুলের সাফল্যের বার্তা:
রাহুলের সাফল্য প্রমাণ করে যে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।রাহুল অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রাণিত করছেন।