বিশেষ: প্রতিহিংসা নাকি নরমাংসের স্বাদ? কেন মানুষখেকো হয়ে উঠল নেকড়েরা?

উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার মহসি তেহসিল এলাকায় নরখাদক নেকড়ের উপদ্রব চরমে উঠেছে। গত ৫০ দিনে নয়টি শিশু সহ মোট দশজন মানুষ এই নেকড়ের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নরওয়ে ইনস্টিটিউট ফর নেচার রিসার্চের ২০০২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চালানো একটি বিশ্বব্যাপী গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২৬টি নেকড়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে চারটি ভারতে।
দুধওয়া জাতীয় উদ্যানের প্রাক্তন ডিরেক্টর তথা বর্ষীয়ান বন আধিকারিক সঞ্জয় পাঠক বলেন, ‘আমাদের আগে বুঝতে হবে নেকড়েরা জঙ্গলে বসবাস করে না। ওরা সামাজিক প্রাণী। শতাব্দীর পর শতাব্দী তারা জনবসতিতেই থাকত। মানুষের পশুপালনের উপরই তারা খাবারের জন্য নির্ভর করত। পোষা ছাগল, খরগোশ ধরে খেত। নেকড়ে খুব বুদ্ধিমান প্রাণী। অন্য মাংসাশী প্রাণীদের থেকে ওদের আলাদা করে প্রতিহিংসা নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।’
উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার নেকড়ে হামলার ঘটনা রাজ্যের পুরনো কিছু ভয়াবহ ঘটনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে প্রতাপগড়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে নেকড়ের হামলায় ১২টি শিশু মারা গিয়েছিল। স্থানীয় কৃষকরা তখন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা একটি নেকড়ের বাচ্চাকে আগুনে ফেলে দিয়েছিল, যার ফলে নেকড়েগুলি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছিল বলে অনুমান করা হয়। ২০০৩ সালেও বলরামপুর জেলায় নেকড়েরা শিশুদের লক্ষ্য করেছিল।
সম্প্রতি খাদ্যের অভাব এবং বাসস্থানের সংকটের কারণে নেকড়েগুলি মানুষের বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মাংস তাদের জন্য খাদ্যের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।
বাহরাইচের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার অজিত প্রতাপ সিং বলেন, ‘নেকড়ে সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে কখনও যদি কোনও নেকড়ে মানুষের মাংসের স্বাদ পায়, তবে সে দিকেই ঝোঁকে। বিশেষত শিশুদের মাংসের স্বাদ তাদের জিভ থেকে লালা ঝরায়। এভাবেই ক্রমশ মানুষখেকো হয়ে ওঠে নেকড়েরা।’