‘গ্যাং অফ থ্রি’-ই কন্ট্রোল করত কাটমানির ব্যবসা, উঠে এলো চাঞ্চল্যর তথ্য

আসানসোলের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দুর্নীতির এক বিশাল জাল ধরা পড়েছে। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই দুর্নীতির মূল হোতা বলে অভিযোগ।
সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে, এই চারজন মিলে হাসপাতালের সব ধরনের সরবরাহ, যেমন ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাবার, এবং অন্যান্য সেবা, নিজেদের মধ্যেই ভাগ করে নিতেন। বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে এই সব জিনিসপত্র হাসপাতালে সরবরাহ করা হতো।
সন্দীপের এই তিন সহযোগীকে হাসপাতালে তাঁর ‘নন্দী-ভৃঙ্গি’ বলা হত। এই তিনজন মিলে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার দায়িত্ব নিতেন এবং সেখান থেকে অর্থ আদায় করতেন।
এই দুর্নীতির কারণে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে এবং হাসপাতালের অবকাঠামোর উন্নয়নে বাধা পড়েছে। সিবিআই-এর তদন্তে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
কীভাবে এই দুর্নীতি হতো?
টেন্ডার বাণিজ্য: হাসপাতালের সব টেন্ডার এই তিনজনের মধ্যেই ভাগ করে নেওয়া হতো।
অতিরিক্ত দাম: বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে সরবরাহ করা হতো।
কমিশন: এই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর সহযোগীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হতো।
এই ঘটনার প্রভাব:
রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি।হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নে বাধা। সরকারি তহবিলের অপচয়। হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা।
আরজি কর হাসপাতালের এই দুর্নীতির ঘটনা সরকারি হাসপাতালগুলিতে দুর্নীতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এই ঘটনার পর সরকারি হাসপাতালগুলিতে দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।