“সন্দীপ ঘোষকে কেন এখনও গ্রেফতার করতে পারলেন না,’ CBI-এর কাছে জবাব দাবি অভিষেকের

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে এমন পরিস্থিতিতে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ আজ তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করেছে। এই সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, আমরা কেন্দ্রকে দলগত ভাবে চিঠি লিখব, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে অনুরোধ করছি, সমাজে যদি পরিবর্তন আনতে হয়, আমাদের চাই ধর্ষণ বিরোধী কঠোর আইন। প্রাইভেট মেম্বার বিল বুক করে প্রয়োজনে এই আইন তৈরি করব। আগামিদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ আসনে মেয়েরা যাতে সংরক্ষণ পান, আমরা তা সুনিশ্চিত করব।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, আমাদের একটাই দাবি, দিল্লি সরকার ধর্ষণ বিরোধী আইন আনুক। আমরা চাই, যারা এই নারকীয় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সমাজে থাকার অধিকার নেই। ৯ তারিখ ঘটনা ঘটেছে, ১০ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেস সিবিআই নিতে পারে চাইলে। আজ ১৪ দিন ধরে সিবিআই তদন্ত করছে। সারদা কাণ্ডে ১০ বছর ধরে তদন্ত করছে, এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি। দু বছর ধরে আমাদের দলের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে, কী বিচার হয়েছে? আমি আপনাদের বলছি, বিচার তবেই হবে যদি ধর্ষণ বিরোধী আইন আসে। ধর্ষণ বিরোধী আইন আগামী ৩-৪ মাসে না এলে, দিল্লিতে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করব।
অভিষেকের কথায়, এই আন্দোলন আমরা দিল্লি নিয়ে যাবো। শুরু তুমি করেছো, শেষ আমরা করব। সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীদের বলছি, বুকের পাটা থাকলে বীরেন সিং, যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করুন।
অভিষেক বললেন, আজ বনধ ডেকেছে বিচারের দাবিতে নয়। গতকাল যারা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে, অশান্তি করে গ্রেফতার হয়েছে, তাদের ছাড়াতে বিজেপি বনধ ডেকেছে।
অভিষেক বললেন, যারা সন্দীপ ঘোষের গ্রেফতারি চাইছিল, তারা আরজি কর ঘটনায় কেন এখনও সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করতে পারল না। তার জবাব দিক সিবিআই।
পারলে উত্তরপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীদের পদত্যাগ দাবি করুন। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করবেন। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন সংসদে আসা উচিত কিনা বলুন। বিজেপি-কে বলছি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার দাবি জানান, ক্ষমতা থাকলে। এই আইন এলে সবচেয়ে আগে জেলে যাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির নেতারা। এমন সব ছাত্র বিএসই-তে সায়েন্স নিয়ে কমার্স পড়ছি, কেউ বলছে, ১১-এ পড়ি, স্কুলের নাম জানি না। ১৪ অগাস্ট মেয়েরা দখলের যে ডাক দিয়েছিলেন, তাকে আমরা সম্মান জানাই।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, যাঁরা আজকের এই কর্মনাশা, সর্বনাশা বনধকে উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বিজেপি ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধ ডেকেছিল। আমরা ২০১১ সাল থেকে আমরা বনধের বিরুদ্ধে। বাংলাকে যারা অচল করতে চাইছেন, সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে। প্রতি ২৮ অগাস্ট পারলে আপনারা বনধ ডাকুন। আজ সমাবেশে যে সংখ্যায় ছাত্র যুবরা উপস্থিত হয়েছেন, গত সব ২৮ অগাস্ট কর্মসূচির রেকর্ড। যত কুতসা, ষড়যন্ত্র হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস তত শক্তিশালী হয়েছে। একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন গোটা দেশ বিচার চাইছে, সেই ঘটনা কেন্দ্র করে আজ যারা রাজনীতি করছে, লাশের রাজনীতি করছে, বাংলার মানুষের সামনে তাদের প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। যারা সন্দেশখালি করে, তাদের নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই। যাদের আমলে হাথরস, উন্নাও হয়েছে, তাদের কাছে নারী সুরক্ষা, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করছেন, তাদের বলি, গত ১০ বছরে মহিলাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে, তা হল উত্তরপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র। এনসিআরবি রিপোর্ট বলছে।