“দোষ কবুল করেছে সঞ্জয়”- তবু কীভাবে উকিল পেল? আইনজীবী কবিতা সরকার কে?

আরজি কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসক হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। শুক্রবার শিয়ালদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।

কেন সঞ্জয় রায় পলিগ্রাফ পরীক্ষার জন্য সম্মত হলেন?
সঞ্জয় রায় দাবি করেছেন যে তিনি নির্দোষ এবং এই পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণিত হবে। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয়কে এই পরীক্ষার জন্য সম্মতি রয়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রশ্ন করেন। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সঞ্জয়ের জবাব ছিল, ‘আমি কোনও অপরাধ করিনি। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। হয়তো এই পরীক্ষায় তা প্রমাণ হবে।’

তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে পলিগ্রাফ পরীক্ষার ফলাফল সবসময় নির্ভরযোগ্য হয় না এবং এটি কোনও আদালতে প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয় না।

কবিতা সরকার কে?
কবিতা সরকার একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী যিনি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা লড়ছেন। তিনি আলিপুর কোর্ট থেকে তাঁর কর্মজীবন শুরু করে দেওয়ানী মামলায় নিজেকে জড়িত করেছিলেন। পরবর্তীতে সাউথ এশিয়ান লিগ্যাল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (SALSA) তে যোগদানের মাধ্যমে তিনি ফৌজদারি মামলায়ও নিজেকে জড়িত করেছেন। বর্তমানে তিনি শিয়ালদা আদালতে কর্মরত।

সঞ্জয় রায়ের মামলা লড়ার বিষয়ে কবিতা সরকার জানিয়েছেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তিরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তা সে অভিযুক্ত হোক বা না হোক। তিনি মনে করেন, একজন আইনজীবী হিসাবে তার দায়িত্ব হল আইন অনুযায়ী মামলা লড়া। তিনি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মনে করেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কবিতা সরকার একজন দক্ষ আইনজীবী যিনি আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি নিষ্ঠাবান। তিনি সঞ্জয় রায়ের মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান করেছেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে প্রত্যেক ব্যক্তিরই আদালতে নিজেকে প্রতিরক্ষা করার অধিকার রয়েছে।

মূলত, কবিতা সরকারের এই মামলায় জড়িত হওয়া ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে সমান ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের একটি প্রয়োগ।

“কেন জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনজীবী দেওয়া হয়?”

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলোর দিকে তাকাতে হবে।

সংবিধানের 39A অনুচ্ছেদ সকল নাগরিককে সমান সুযোগে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার দেয়। অর্থাৎ, কেউ যদি আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বা অন্য কোন কারণে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারে, তবুও তাকে আদালতে তার মামলা লড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

সঞ্জয় রায়ের মামলায় যা ঘটেছে, তা এই নীতিরই একটি প্রয়োগ। কোন আইনজীবী তার মামলা লড়তে রাজি না হওয়ায়, আদালত রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের একজন আইনজীবীকে তার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিয়োগ করেছে। এই ব্যবস্থাটি নিশ্চিত করে যে, যে কোনো ব্যক্তি, তার অপরাধের প্রকৃতি যাই হোক না কেন, আদালতে নিজেকে প্রতিরক্ষা করার সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এই ধরনের আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে যাতে সকল নাগরিকের সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা যায়।