বিশেষ: কেন জন্মাষ্টমী পালন করা হয়? কত বছর আগের ঘটনা, বলতে পারেন?

জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মের একটি উৎসব। এটি বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি। তবে এই জন্মাষ্টমী কীভাবে শুরু হল, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব কীভাবে হল, তা অনেকেই জানেন। যতই জানা থাকুক, জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণকে নিয়ে নানা তথ্য বা পৌরাণিক ইতিহাসের গুরুত্ব কোনো অংশে কমে না।

জানা যায়, কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল প্রায় ৫ হাজার বছর আগের। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সেই সময়কে বলা হত দ্বাপর যুগ। অসুররা ছিল খুবই অত্যাচারী। তাদের অত্যাচারে সকলেই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। দিন দিন অসুরদের অত্যাচার এতই বেশি হয়ে উঠে যে দেবদেবীগণ ক্ষীর সমুদ্র তীরে গিয়ে ভগবানের কৃপা প্রার্থনা করতে থাকেন। তাদের প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে শুধুমাত্র ব্রহ্মাকে অবগতির জন্য দৈববাণীতে বলে, ‘হে ব্রহ্মা, আমি খুব তাড়াতাড়ি যদুবংশীয় রাজাদের রাজধানী মুথরা রাজা সুরসেনের পুত্র বসুদেবের সন্তান রূপে দেবকীর অষ্টম গর্ভে আবির্ভূত হব। ধরিত্রী দেবসহ তোমরা আমার নির্দেশ অনুসারে দ্বারকা, মথুরা এবং ব্রজের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জন্মগ্রহণ করবে।’

তখন উগ্রসেন নামে মথুরার এক রাজা ছিলেন। প্রচণ্ড রকমের ধার্মিক থাকলে কি হবে, তার ছেলে কংস ছিলেন খুবই অত্যাচারী। কংসের অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে নিজের পিতা উগ্রসেনকেও সিংহাসনচ্যুত করে কারাবন্দি করতে দ্বিধাবোধ করেননি। নিজেই মথুরায় রাজত্ব শুরু করে। আবার এই কংসই আরাধনা করে বর লাভ করেছিলেন, তার বোন দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান ছাড়া অন্য কোনোভাবে তার মৃত্যু হবে না।

পৌরাণিক ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, দেবকীর বিবাহ হয় বসুদেবের সঙ্গে। বর কনেকে রথের উপর বসিয়ে গোটা রাজ্যজুড়ে শোভাযাত্রা করা হয়। উল্লেখ্য, সেই রথের সারথি হয়েছিলেন রাজা কংস। রথ চলছে এমন সময় হঠাৎ করে সেই দৈববাণীটি কংসের কানে বেজে উঠে, ‘ওরে নির্বোধ যাকে তুমি রথে করে নিয়ে যাচ্ছ, তার গর্ভের অষ্টম সন্তান তোমার প্রাণ হরণ করবে।’ দৈববাণী শুনে কংস সঙ্গে সঙ্গে খড়্গ হাতে দেবকীকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হন। এ দেখে বসুদেব কংসকে অনেক সবিনয় অনুরোধ করে রাজী করিয়ে বলেছিলেন, তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই কংসের হাতে তুলে দেবেন। একথা শুনে কংস শান্ত হন ঠিকই কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন সেইদিনই।

একে একে জন্ম নেয় ছয়টি সন্তান। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর পরই কংস পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো সদ্যোজাতকে পাথরের সঙ্গে আছাড় দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করতেন। সপ্তম গর্ভের সন্তান যখন বলদেব অধিষ্ঠিত হয়েছিল তখন ভগবানের নির্দেশে যোগমায়া দেবী দেবকীর গর্ভ হতে তাকে স্থানান্তরিত করে নন্দালয়ে রোহিনীর গর্ভে স্থাপন করেন এবং প্রচার করা হয় দেবকীর গর্ভপাত হয়েছে।

অষ্টম গর্ভের সন্তান অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মগ্রহণের সময় কারাগারের বাইরে পূর্বের চেয়ে কংস এবারো আরো বেশী পাহারার ব্যবস্থা করেন। মাস ছিল ভাদ্র, তিথি ছিল অষ্টমী এবং রজনী ছিল ভীষণ দুর্যোগময়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি এমন সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হন এবং দৈববাণী শোনা যায়, ‘বসুদেব, তুমি এখনই গোকুলে যেয়ে নন্দের স্ত্রী যশোদার পাশে তোমার ছেলেটিকে রেখে এসো এবং এই মুহূর্তে তার যে কন্যা শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে তাকে এনে দেবকীর কোলে শুয়ে দাও। আমার মায়ায় পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এখন গভীর ঘুমে অচেতন, যার ফলে কেউ কিছুই জানতে পাবে না।’