বাংলাদেশে কখন ভোট হবে?-প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন মোহাম্মদ ইউনুস

দুদিন আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে বলতে শোনা যায়- “ভোট পরে হবে, দেশে আগে সংস্কার হতে হবে।” কিন্তু হঠাৎ করেই ভোট নিয়ে আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। আগাম নির্বাচন ও সংস্কারের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
টিভি ও বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস বললেন, ‘দেশে ভোট কখন হবে, সেই সিদ্ধান্তটা একেবারেই রাজনৈতিক। আমাদের সিদ্ধান্ত নয়।’
মুখ্য উপদেষ্টাকে বলতে শোনা যায়, ‘দেশের সঙ্কটে ছাত্রদের আহ্বানেই আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কখন নির্বাচন হবে, সেটা আমাদের বলার কথা নয়। সবাই জানতে আগ্রহী, কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে। এর জবাব শুধু আপনাদের কাছে— আপনারা কখন আমাদের বিদায় দেবেন।’
নোবেলজয়ী বছর চুরাশির অর্থনীতিবিদবলেন, ‘আমরা কেউই রাজনীতি বা দেশ-শাসনের মানুষ নই। নিজ-নিজ পেশায় আমরা যথেষ্ট আনন্দ পাই। আমরা শুধু সোনার বাংলা গড়ার একটা লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলে একটা টিম হিসেবে কাজ করছি। তাই কখন যাব এই প্রশ্নটা বারবার তোলার দরকার নেই। তবে এটাও বলে রাখি, যাওয়ার আগে সংস্কারের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচন কমিশনকেও শুধরে দিয়ে যাব। কমিশনকে যে কোনো সময় আদর্শ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখব।’
মুহাম্মদ ইউনূস বললেন, ‘নতুন এক বাংলাদেশ গড়তে, নতুন প্রজন্মের সব আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবের রূপ দিতে সহযোদ্ধা হিসেবে দেশের সব পেশার, সব বয়সের, সব ধর্মের মানুষকে এই সংগ্রামে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সঙ্গে বলব— আমাদের যদি কাজ করতে না দেন, তা হলে শেখ হাসিনা জমানায় জমানো দুঃখ ঘোচানোর সব পথ বন্ধ হয়ে থাকবে। আমাদের কাজ করতে দিন। আপনাদের দাবি লিখিতভাবে দিয়ে যান। দয়া করে আমাদের বিপক্ষ দল বলে মনে করবেন না।’