বিশেষ: লাবড়া আর ছ্যাঁচড়া কী একই পদ? বাঙালির মধ্যে অনেকেই পার্থক্যটা জানেন না

বাঙালির রান্নাঘরে নানা রকমের সুস্বাদু খাবারের জন্ম হলেও, ছ্যাঁচড়া আর লাবড়া দুটি খাবারের জনপ্রিয়তা অন্য সব খাবারকে ছাপিয়ে যায়। দুটোই দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও, এই দুই পদের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।
লাবড়া: নিরামিষের রাজা
লাবড়া হল এক চমৎকার নিরামিষ পদ। খিচুড়ির সঙ্গে লাবড়ার জুটি আসলে অসাধারণ! এতে থাকে নানা রকমের সবজি, যেমন আলু, পটল, কাঁচকলা, ফুলকপি, পুঁইশাক, সিম, বেগুন, ঝিঙে। মসলা হিসেবে পাঁচফোড়ন, শুকনো লঙ্কা আর তেজপাতা দিয়ে এই পদের স্বাদ আরও বাড়ানো হয়। ভোগের খিচুড়ি বা কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে লাবড়া থাকলেই বুঝতে হয়, রান্নাঘরে কত যত্ন নেওয়া হয়েছে।
ছ্যাঁচড়া: আমিষ প্রেমিকদের স্বর্গ
ছ্যাঁচড়া আবার একেবারেই আমিষপ্রধান এক পদ। বিয়েবাড়ি বা অন্য কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে মাছ রান্নার পর যে সব মাছের হাড়, মাথা, লেজ বেঁচে যায়, সেগুলোকে দিয়েই ছ্যাঁচড়া তৈরি করা হয়। এই হাড় আর মাথাকে নানা রকমের সবজি দিয়ে রান্না করে এক অসাধারণ স্বাদের পদ তৈরি করা হয়। ছ্যাঁচড়ার স্বাদ এতই মুখে জল আনে যে, একবার খেলে আর ভুলতে পারবেন না।
লাবড়া আর ছ্যাঁচড়ার মধ্যে তফাত কেন?
লাবড়া শুধুমাত্র সবজি দিয়ে তৈরি, আর ছ্যাঁচড়ায় মাছের হাড়, মাথা, লেজও থাকে।
লাবড়ার স্বাদ মূলত সবজির উপর নির্ভর করে, আর ছ্যাঁচড়ার স্বাদ মাছের সঙ্গে সবজির মিশে যাওয়ায় একটু আলাদা হয়।
লাবড়া সাধারণত নিরামিষ অনুষ্ঠানে বেশি ব্যবহৃত হয়, আর ছ্যাঁচড়া আমিষ খাবার হিসেবে বিশেষ অনুষ্ঠানে বেশি দেখা যায়।
কেন এই দুই পদ এত জনপ্রিয়?
এই দুই পদই বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। বাঙালির রান্নাঘরে এই দুই পদের জন্ম হয়েছে অনেক আগে থেকেই। স্বাদে মিষ্টি, তেতো, ঝাল সব মিশে থাকায় ছোট থেকে বড় সবাই এই দুই পদ খুব পছন্দ করে।
এক কথায়, লাবড়া আর ছ্যাঁচড়া দুটোই বাঙালির রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।