OMG! ‘ভূত ছাড়াতে’ জুতো মুখে হাঁটানো হলো তরুণীকে, ওঝার নিদানে অমানবিক আচরণ

সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও, কুসংস্কারের অন্ধকার এখনও অনেকের মন দখল করে আছে। বহরমপুর শহরের একটি ঘটনা এই কথাটার জ্বলন্ত উদাহরণ।
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় এক তরুণীকে মুখে চামড়ার জুতো নিয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছিল! তার বাবা-মা এবং দাদা তাকে এই অমানবিক কাজ করতে বাধ্য করছিলেন। কারণ? ওঝার নির্দেশে! ওরা বিশ্বাস করত যে, এই ভাবে তরুণীকে ভূত থেকে মুক্ত করা যাবে।
এই ঘটনা শুক্রবার রাতে চুঁয়াপুর কৃষ্ণনাথ কলেজের গঙ্গাঘাট এলাকায় ঘটে। তরুণীকে মুখে জুতো নিয়ে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে সে যাতে জুতোটা ফেলে না দেয়, সেজন্য তার পরিবারের লোকেরা তাকে লাঠি দিয়েও আঘাত করছিল। এই ঘটনা দেখেও আশপাশের মানুষ কেউ এগিয়ে আসেননি।
পুলিশ পরে তরুণীকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, তরুণী বেশ কিছুদিন ধরে আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। অনেক চিকিৎসক দেখানোর পরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তারা হাতা কলোনির এক ওঝার শরণাপন্ন হয়। ওঝাই তাদের এই অদ্ভুত নির্দেশ দেয়।
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। সব সময়ে আতঙ্কে থাকে। বাড়িতে রাখা যাচ্ছে না। নানা ধরনের অস্বাভাবিক কাজকর্ম করছে। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতেই এই পথ ধরেছিলাম।’
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘মনোবিজ্ঞান এত উন্নত হওয়ার পরেও এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নানা পারিবারিক সমস্যার কারণে মানুষের মন ও নার্ভের উপর চাপ পড়লে অজান্তেই নানা অস্বাভাবিক আচরণ করে মানুষ। কিন্তু আমজনতা যতদিন এই সমস্ত কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে না-আসবে, ততদিন এই ওঝা, ঝাড়ফুঁকের সমস্যার সমাধান হবে না।’