“রান্নাবান্না পরে হবে”- সুপ্রিম কোর্টের লাইভ স্ট্রিমিং -এ নজর গৃহবধূ থেকে শুরু করে সকলের

হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও, ন্যায়ের দাবিতে রাজ্য, দেশ, এমনকি বিদেশেও মানুষের ঝড় উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই ন্যায় কি মিলবে, এই প্রশ্নে বৃহস্পতিবার সকলেই উৎসুক ছিলেন। টিভি ও মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রেখেছিলেন। প্রথম দৃষ্টিতে মনে হত যেন কোনো বড় ম্যাচ চলছে, কিন্তু আসলে সুপ্রিম কোর্টের লাইভ স্ট্রিমিং চলছিল। বর্ধমান শহরে, সরকারি দপ্তর থেকে বাড়ির রান্নাঘর, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাজার, সর্বত্র মানুষ এই ঘটনা অনুসরণ করছিল।

তেঁতুলতলা বাজারে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও, ব্যবসায়ী অনাদি সাহার নজর ছিল তার মোবাইলে। সুপ্রিম কোর্টের আইনি যুদ্ধের খবর শুনছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় রাধানগর থেকে আলু কিনতে আসা সুশান্ত দাস দাম জানতে চাইলেন।

অনাদির উত্তর, ‘বাছাই ছাড়া ৩০ টাকা। বাছাই করে নিলে ৩৩ টাকা।’

আলু বাছাই করতে করতে সুশান্ত বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে। একজনের বিয়ে দিয়েছি। একজন দিল্লিতে পড়ে। তাই দুশ্চিন্তা বেশি।’

তিনি বললেন, ‘আমার স্ত্রী বাতের ব্যথায় বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারেন না। কিন্তু ১৪ তারিখ রাতে সেও জোর করে বেরিয়ে কার্জন গেটে এসেছিল। আসলে ওই মেয়েটি আমাদের সবার। এ দিনও বাড়িতে টিভি-তে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি দেখছিলাম। আদালতই আমাদের শেষ ভরসা।’

গৃহবধূ শম্পা দাস বলেন, ‘ঘরের কাজের মাঝেই আদালত কী রায় দেয় সেটা জানার জন্য টিভি দেখছিলাম। না হয় একটা পদ রাঁধতে পারব না, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় জানাটা বেশি দরকার ছিল।’