বিশেষ: কোথাও শিরচ্ছেদ, কোথাও ফাঁসি ; জেনেনিন ধর্ষককে কোন দেশে কী শাস্তি দেয়া হয় ?

আরজি করে চিকিৎসকের মৃর্ত্যু নিয়ে তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশ। রাজ্যের রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্র একটাই দাবি উঠছে ধর্ষণ কাণ্ডে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়া হোক। কারণ দেশজুড়ে ক্রমশ বেড়েই চলছে এই ধরণের জঘন্য ও ঘৃণ্য অপরাধ। আর এই আবহে জেনেনিন বিশ্বের অন্যান্য দেশে ধর্ষণের শাস্তি কী …..?
বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের অপরাধে যেসব শাস্তির বিধান আছে, তা এখানে একটু তুলে ধরছি-
চীন: ধর্ষণ প্রমাণ হলেই আর কোনো সাজা নয়, বিশেষ অঙ্গ কর্তন এবং সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। অন্য কোনো শাস্তি নেই।
ইরান: ধর্ষককে ফাঁসি, না হয় সোজাসুজি গুলি করে হত্যা। এভাবেই ধর্ষককে এদেশে শাস্তি দেওয়া হয়।
আফগানিস্থান: ধর্ষণ করে ধরা পড়লে চার দিনের মধ্যে ধর্ষকের মাথায় সোজা গুলি করে মারা হয়।
উত্তর কোরিয়া: অভিযোগ, গ্রেফতার আর তারপর অভিযোগ প্রমাণ হলে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সৌদি আরব: জুম্মার নামাজের পর ধর্ষককে প্রকাশ্যেই শিরচ্ছেদ করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মঙ্গোলিয়া: ধর্ষিতার পরিবারের হাত দিয়ে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মিশর: ধর্ষককে জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়।
ফ্রান্স : ফ্রান্সে ধর্ষণের শাস্তি কী তা ভিকটিমের ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার ওপর নির্ভর করে। সেখানে ধর্ষকের সাজা ৩০ বছরের কারাদণ্ড থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড।
নেদারল্যান্ডস: নেদারল্যান্ডসে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে চার থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই দেশে যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন, অনুমতি ছাড়া জোর করে চুম্বনও এ ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে।
রাশিয়া: বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি তিন থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
যুক্তরাষ্ট্র : বিশ্বের শীর্ষ শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই ধরনের আইন প্রচলিত রয়েছে। এগুলো হলো অঙ্গরাজ্য আইন এবং ফেডারেল আইন। ফেডারেল আইনে মামলা হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অঙ্গরাজ্য আইনে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক রকম শাস্তি।
নরওয়ে : নরওয়েতে ধর্ষকের সাজা চার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।
ইসরায়েল : ইসরায়েলে ধর্ষণের শাস্তি চার থেকে সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদণ্ড।
শাস্তির মাত্রা দেখে বোঝা যায়; উপরের দেশগুলো এ অপরাধকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। এতে ধর্ষণের মাত্রাও ওইসব দেশে খুব কম, প্রায় শূন্যের কোঠায়। মৃত্যুদণ্ড দিলে এর দুটি ভালো দিক আছে। প্রথমত বর্তমান অপরাধী নির্মূল হয়। দ্বিতীয়ত একই অপরাধের জন্য নতুন অপরাধী খুবই কম তৈরি হয়।