RG Kar -আবহে দূর্গা পুজোর অনুদান অস্বীকার করবে কি কমিটিগুলো? জেনেনিন আসল সত্যি

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভুয়ো খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। খবরে দাবি করা হচ্ছে, আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার প্রতিবাদে অনেক দুর্গাপুজো কমিটি সরকারি অনুদান নিতে অস্বীকার করেছে। কিন্তু এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির দাবি, শহরে ২৭৯৩টি বারোয়ারি পুজো হয় এবং এখনও পর্যন্ত কোনো পুজো কমিটিই অনুদান নিতে অস্বীকার করেনি। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু মনে করেন, এই ধরনের ভুয়ো খবর বাংলার দুর্গাপুজোর সম্মানহানির চেষ্টা।

তিনি বলছেন, ‘কলকাতায় ২ হাজার ৭৯৩টি বারোয়ারি পুজোর মধ্যে আমাদের সদস্য ৬০০-র বেশি। এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও সদস্য অনুদান নিতে অস্বীকার করেনি। কোনও বরোয়ারিও এমন করেছে বলে আমার কাছে খবর নেই। এই ধরনের পোস্ট একটা গভীর চক্রান্তের অংশ বলেই আমরা মনে করছি।’

উত্তর কলকাতার কমিটিগুলোর সম্পাদক অভিষেক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘দুর্গাপুজো নিছক একটা পুজো নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে দেড় লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি। যুক্ত থাকে এক কোটির বেশি পরিবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটা পোস্ট করে এই বিরাট কর্মযজ্ঞকে হেয় প্রতিপন্ন করার লোক অনেক আছে।’

ফোরামের দক্ষিণ কলকাতা শাখার কোষাধ্যক্ষ সন্দীপ চক্রবর্তী বলছেন, ‘দক্ষিণ কলকাতাতেই ৯৪টি পুজো ফোরামের সঙ্গে যুক্ত। এখনও পর্যন্ত কেউ অনুদান নিতে অস্বীকার করেননি। কোনও হাউসিং অনুদান পায় না। সুতরাং হাউসিংয়ের নাম করে অনুদান অস্বীকার করার যে প্রচার চলছে, সেটা ভিত্তিহীন। আমরা সবাইকে বলছি, গুজবে কান না দিতে।’

তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ বলেন, ‘পুজোর অনুদান বয়কট অত্যন্ত আপত্তিকর কথা। এখন যাঁদের টাকা পয়সা আছে, সরকারি অনুদান লাগে না, তাঁরা রাজনীতির কারণে এমন কথা বলতে পারেন। পুজো মানে শুধু ধর্ম-উৎসব নয়। পুজো একটা বড় অর্থনীতি। মৃৎশিল্পী, ডেকোরেটর, আলো, ঠাকুরের সাজ, ফুল চাষি, বিসর্জনের ব্যান্ড— সবার কাছে পুজো কমিটির মাধ্যমে টাকা পৌঁছয়। যাঁরা পুজোর ফান্ড কমাতে চান তাঁরা বহু গরিব মানুষের ভাঁড়ারে টান দিতে চাইছেন। যাঁরা বলছেন পুজো ছোটো করুন তাঁরা কি পুজো অর্থনীতিতে যুক্তদের আয় কমে গেলে তার দায়িত্ব নেবেন? একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে পুজোর কী সম্পর্ক? যাঁরা এই বয়কটের কথা বলছেন তাঁরা মানুষকে বিপথে চালিত করতে চাইছেন।’