‘দাদা’ যখন মোটিভেশনাল স্পিকার, জেনেনিন তরুণ সমাজ কে কি দিলেন বার্তা

শনিবার সকাল ১০টা, নিউটাউনের একটি অডিটোরিয়াম জনসমুদ্রে পরিণত। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে শুনতেই এই ভিড় জমেছে। একটি বহুজাতিক সংস্থার এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি। কেবল তাই নয়, তাঁর কন্যা সানাও এই সংস্থায় কর্মরত। তবে আজ তিনি বাবা নয়, ক্রিকেটের ‘দাদা’ হিসেবেই উপস্থিত।

আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় তাঁর প্রাথমিক মন্তব্য নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছিল। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “এটা এক অমানুষিক ঘটনা। দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”

তবে সেই অনুষ্ঠানে তিনি ক্রিকেটের ময়দান থেকে জীবনের নানা পাঠ শেখান। তাঁর বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পারি, কীভাবে একজন খেলোয়াড়ের মতো জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি একই ছকে খেলে দেখেছি। টিমকে খেলিয়ে দেখেছি। একই রকম ফল পেয়েছি বারবার। সেই ফল যে খারাপ তা একবারও বলছি না। কিন্তু সেই ফল আমাদের সবার জানা। এর বাইরে কিছু হতে পারে সে বিষয়ে কোনও ধারণা ছিল না। কিন্তু ছক ভাঙলে তার ফলটা চমকপ্রদ হয়। যা হয়তো আমরা কখনও ভাবিনি। সব সময়ে সাফল্য আসবে তা নয়। সাফল্য এর ব্যর্থতা দুই থাকবে। কিন্তু ফলটা বদলে যাবে। তাই চেনা ছকের বাইরে বেরোনো প্রয়োজন। জীবনে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।’

‘আমি যখন ক্যাপ্টেন ছিলাম সব সময়ে আমার চারপাশে একটা নয়েজ় চলতো। আমি কাউকে বেশি ফেভার করছি, কাউকে সুযোগ দিচ্ছি না—এরকম নানা কিছু কানে আসত। মনে রাখতে হবে এই বাইরের নয়েজ়টা থাকবে। কিন্তু আমি যখন বালিশে মাথা রেখে শুতে যেতাম তখন নিজেকে প্রশ্ন করতাম, আমি যা করেছি তা টিমের ভালোর জন্য করেছি তো? আমার সব সিদ্ধান্ত টিমের জন্য ছিল তো? সেই সময়ে মন থেকে সায় পেয়েছি। তাই নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পেরেছি’,

তাঁর কথায়, ‘আমি জীবনে এমন সময় দেখেছি যখন ভাবতে হয়নি যে আমি টিমে থাকব কিনা। প্রথম নামটাই আমার লেখা হতো। তার পর এমন সময় আসে যখন প্রতি ম্যাচের পরে মনে হতো পরের ম্যাচে আমাকে নেওয়া হবে তো?

আমার বাবা তখন জীবীত ছিলেন। ভারত ভালো খেললেই বাবা আমাকে বলতেন, ‘তোমার আর টিমে ফেরা হবে না।’ আমি শুনতাম। সেই সময়টা আমাকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে। তবে ব্যর্থতার পরে যে সাফল্য আসে তার স্বাদ আলাদা হয়।’