“পুরুষতন্ত্রের বিনাশ ঘটাতে হবে”-মহিলা রাজনৈতিক দল তৈরিরও ভাবনা এ বার বাংলায়

আরজি কর মেডিকেল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসকের উপর হওয়া নৃশংস ঘটনার পর থেকে নারীদের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনেরই একটি প্রত্যক্ষ ফল হিসাবে নারীদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের দাবি উঠেছে।

লেখিকা সংগীতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনেকেই মনে করেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণেই নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নারীদের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা জরুরি।

লেখিকা সংগীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘পুরুষতন্ত্র হিংসার জন্ম দেয়। আর সে জন্যেই আরজি করের মতো ঘটনা ঘটে। ভায়োলেন্সের মধ্যে দিয়ে পুরুষতন্ত্র সমাজকে কন্ট্রোল করতে শেখায়। হিংসা বন্ধে পুরুষতন্ত্রের বিনাশ ঘটাতে হবে। এর জন্যে মেয়েদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল থাকা দরকার।’

তবে, লেখিকা সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত অন্যরা এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, নারীদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করার পরিবর্তে, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো উচিত। নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য আসন সংরক্ষণের মতো ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

নারী আন্দোলনের কর্মী শাশ্বতী ঘোষের মতে, নারীদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল থাকলে ভালো হবে, কিন্তু একইসঙ্গে এই আশঙ্কাও রয়েছে যে, পুরুষরা ভাবতে পারে নারীদের সমস্যা নিয়ে তাদের আর কিছু করার দরকার নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রিক্লেইম দ্য নাইট’ ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর থেকে নারীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হল নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।